Showing posts with label দুর্নীতি ও রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label দুর্নীতি ও রাজনীতি. Show all posts

2 June 2020

দৈনন্দিন আলাপ ৩৫

করোনার এই পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে আমরা জানি না। কিন্তু অর্থনীতি যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সব খুলে দেয়া হলো। খুলে দেয়ার আগে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হলো যা জনতাবিরোধী এবং পুজিপতিবান্ধব। মানে ধনীকে আরো ধনী করো, গরীবকে আরো গরিব, এই মতাদর্শ থেকে রাষ্ট্র সরে আসেনি।
গণপরিবহন খোলা হলো। সেখানে যে দুইদিন পর থেকেই আর কেউ সামাজিক দুরত্ব মানবেনা সেটা সবাই বুঝতে পারছি। সেটা সম্ভব ও না। এতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে, গণপরিবহনের ঘাটতি সবসময়ই ছিলো। আর এসমস্ত গণপরিবহন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কতোটা উদাসীন তাও সবাই জানেন। নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবহন ব্যবস্থা আর গাদাগাদি করে নেয়া যাত্রী থেকে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পরবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
গণপরিবহনে প্রনোদনা দিতে ব্যর্থ সরকার, যুক্তিহীনভাবে ভাড়া বাড়ালো। ৩ মাস গণপরিবহন কামাই করতে পারে নি বলে আগামি ৩ বছর কামাইয়ের পথ উন্মুক্ত করলো। এখানে লাভ কার, লস কার? যে মধ্যবিত্ত জনতা গত ৩ মাস সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছে, সে দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করবে। আর শাহজাহান খান গংরা সারা বছর ধরে তোলা শ্রমিক কল্যান চাদার টাকায় আরাম-আয়েশ করবে।
শ্রমিকের কল্যানের নামে তোলা সেই চাদার টাকা কই? গণপরিবহনে সরকারী প্রনোদনা কই? অথচ এই বৃদ্ধিকৃত ভাড়া কিন্তু শ্রমিক-ড্রাইভাররা পাবে না। পাবে মালিকপক্ষ এবং চাদাবাজ সিন্ডিকেটের লোকেরা। আর একবার এই ভাড়া বেড়ে গেলে, আর কখনো কমবে না। সব স্বাভাবিক হয়ে গেলেও এই ৩ মাস না কামাইয়ের ক্ষত সাড়বে না শাহজাহান গংদের।
সাধারণ যাত্রীর লাভ হচ্ছে না, শ্রমিকের লাভ হচ্ছে না, এমন সিদ্ধান্ত সরকার কিভাবে নেয়? এই সরকারের না মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন করার কথা। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার! ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে দিতেই নিজের শক্তি-স্বামর্থ ক্ষয় করে ফেলছে সরকার। কোন কোন সিদ্ধান্ত জনতার স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছে না।
এরপর আসে উবার, পাঠাও বন্ধ রাখার মতো গনবিরোধী প্রস্তাব। আচ্ছা গণপরিবহন, যেখানে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা, সেটা খুলে দেয়া হলো; এই সার্ভিসগুলো কি দোষ করলো? আর এসব উবার, পাঠাও বা এরকম সার্ভিস যারা দিয়ে থাকেন, তারা তো সমাজের মধ্যবিত্ত অংশই। সার্ভিস দিয়ে তারা কিছু পয়সা কামাই করে সংসার চালান। এদের সংখ্যাও নিতান্ত কম না। এসব সার্ভিসদাতাদের অর্থনীতির কথা কে চিন্তা করে দেবে?
করোনা আসার পর আমরা যেমন বুঝতে পেরেছি আমাদের স্বাস্থ্যখাত ঠিক কতোটা দুর্নীতি কবলিত, ঠিক তেমন এবার আমরা বুঝতে পারবো আমাদের পরিবহন খাত কতোটা লুটপাট কবলিত। এই দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে দেশ পেছাতে পেছাতে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে।
আমাদের সকলের বাস এই জাহান্নামে। সবাই এই জাহান্নাম ছেড়ে যেতে চাইছে। শিকদার ভাইদের দেখেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশের থাই এম্বাসি, থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ এম্বাসি, এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ সব কেমন ম্যানেজ করে ফেললো। অথচ এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু জানে না। মোর্শেদ খান স্ত্রীকে নিয়ে পুরো প্লেন ভাড়া করে পালালো। এদের সক্ষমতা আছে, এই দেশ ছেড়ে পালানোর, এরা পালিয়েছে।
আবার লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশী গুলি খেয়ে মরলো। এরাও একটা ভালো জীবনের আশায়, একটু ভালো কাজ আর বেশি টাকা কামাই করার আশায় বিদেশে যেতে চাইছিলো। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি শিকদার ব্রাদার্স আর মোর্শেদ খানদের মতো দুর্নীতিবাজ আর লুটপাটকারী না হলে, বিদেশগমন খুব কঠিন। বাংলাদেশের জনতাবিরোধী সরকার জনতাকে দেখে রাখার জন্য, জনতার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ক্ষমতায় বসে নি। সরকার ক্ষমতায় বসে আছে যেনো দুর্নীতিবাজ আর লুটপাটকারীরা একটা সুশীতল ছায়ায় বসে দুর্নীতি আর লুটপাট করে যেতে পারে।
এবং এই দুর্নীতি ও লুটপাট নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। দুয়েকদিন পরপর স্যাম্পল আকারে গ্রেফতার করা হয়। কাদের গ্রেফতার করা হয় জানেন, কার্টুনিস্ট কিশোর, লেখক মুশতাক, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুলদের মতো ভয়ংকর সব অপরাধীদের। তাদের অপরাধ কি? তারা মন্ত্রীদের নিয়ে কার্টুন আকে, তারা সেই কার্টুন শেয়ার দেয়, তারা কোথায় কতো দুর্নীতি হয়েছে সেটা নিয়ে ৩ মিনিটের ভিডিও বানায়। কি ভয়ংকর!
অন্যায় সহ্য করাও অন্যায়। এটা ভেবে অনেকে চুপ থাকেন যে মুজিবকন্যা ক্ষমতায় আছেন। কিন্তু মুজিবকন্যা ক্ষমতায় থাকার সময়েই যদি দুর্নীতি-লুটপাট হয়, জনতা বিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়, তখন কি করবেন?! ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, তাদের কারো অধিকার নাই, বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়ার, তাদের অধিকার নাই জনতা বিরোধী এইসব সিদ্ধান্ত নেয়ার, দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার।
যদি ৫ মিনিট সময় পান, ভাবুন, আপনার বাচ্চাকে আপনি কেমন বাংলাদেশ দিয়ে যেতে চান। কারণ আগামীর বাংলাদেশ, জনতার বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ- দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত, মুক্ত জনতার বাংলাদেশ।

28 May 2020

দৈনন্দিন আলাপ ৩৪


করোনা আসার পর শতশত অপকারের মধ্যে একটা উপকার হয়েছে। এই সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের রাষ্ট্রের দুর্বল দিকগুলো। একটি ব্যর্থ লুটপাটবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও যেনো তা বিশ্বাস করতে চাইছিলাম না। অথবা নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে রাখার চেষ্টা করতাম, সবার তো একই অবস্থা।

অথচ দেখুন, করোনা আসার পর আমাদের রাষ্ট্রের লজ্জাস্থান এক এক করে উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। আমরা এমন রাষ্ট্রে, এমন ব্যবস্থার মধ্যেই দিনের পর দিন বসবাস করেছি। ভেবেছি এসব কথা লিখে কি লাভ! যাদের স্বামর্থ আছে তারা নিজের পরের প্রজন্মের কথা ভেবে দেশ ছেড়ে দিবে, যাদের স্বামর্থ নেই তারা চোখমুখ আরো বন্ধ করে আরো সহনশীল হয়ে উঠবে।

করোনা আসার আগে আমরা দুই মাস সময় পেয়েছি প্রস্তুতি নেয়ার। কোনো প্রকার প্রস্তুতি নেয়া হয় নি। আমাদের বর্বর মন্ত্রীসভা উঁচু গলায় বলেছে- সব প্রস্তুতি নেয়া আছে, আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী। একজন মুর্খ লোক, ১৭ কোটি মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম, আমরা তা বুঝতে পারলাম। বর্বর মন্ত্রী নিজেও জানে করোনায় রাষ্ট্র কোনো প্রস্তুতি নেয়নি।

এরপর টেস্ট আর রোগী ভর্তির প্রসঙ্গ। প্রথমে বললো- কিট কম, টেস্টও কম তাই। টেস্ট যখন হওয়া শুরু করেছে দেখা যাচ্ছে ১০-২০% ই আক্রান্ত বের হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছে, নিজেদের ইম্যিউন সিস্টেম ভালো হলে তারা রোগমুক্ত হচ্ছে। নচেৎ অকাল মৃত্যুর দিকে ঝুকে পড়ছে। এই মৃত্যুর দায় সরকারের। এছাড়া দুইটি বিষয়। ১. করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা, এবং ২. এই সময়ে অন্যান্য প্রায় সকল রোগের চিকিৎসা সেবা থামিয়ে দেয়া।

জনগণের পক্ষ থেকে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই চিকিৎসা সেবা আপনার মনমর্জি নয়; ইচ্ছে হলে দিবেন, না হলে দিবেন না। চিকিৎসা সেবা জনতার মৌলিক অধিকার, জনতার হক। আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছা কোনোটাই এই মৌলিক অধিকার ধার ধারে না। অথচ বাংলাদেশের সরকার জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিতে সম্পূর্ণ রূপে ব্যররথ-অসমর্থ। এমন সরকারকে জাদুঘরে পাঠানো ছাড়া জনতার সামনে আর কোনো উপায় খোলা নেই।

এরপর লকডাউনের নামে সিদ্ধান্তহীনতার ফাইজলামি। সিদ্ধান্তগ্রহণের জায়গায় কোন মাথামোটারা বসে আছে জানিনা, কিন্তু তারা যে এতো অপদার্থ তা করোনা না এলে জানা যেতো না। এক গার্মেন্টস খোলা আর বন্ধ করা নিয়ে নাটক করতে করতে সহ্যের সকল সীমা অতিক্রম করে গেছে তারা। সারা দেশে সমানভাবে রোগ ছড়িয়ে দেয়ার কৃতিত্ব তাই সরকারের। গার্মেন্টসের সারা বছরের লাভের টাকা, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স আর ঋণের টাকা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, সারা বছর সড়ক থেকে উঠা শ্রমিক কল্যান চাঁদার টাকা কোথায় যায়! সময় এসে গেছে, এসব হিসেব নেয়ার।

এরপর এরকম একটা ভঙ্গুর আর অথর্ব স্বাস্থ্যখাত নিয়ে রাষ্ট্র কিভাবে ৫০ বছর পার করলো, এ এক বিষ্ময়! সবাই হয় ঘরে বন্দী, অথবা মনোযোগ অন্য দিকে। এখনি সময় সরকারের ভাবমূর্তি পুনোরোদ্ধারের। গণতন্ত্র অনেক আগেই নিহত হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে কথা বলার অধিকারটুকু কেড়ে নিতে পারলেই দেশটা বাপদাদার রেখে যাওয়া প্লটে পরিণত হবে। দেশের যখন এমন অবস্থা, তা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।

দেশের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে কার্টুন আঁকায় কার্টুনিস্ট জেলে যায়, সেই কার্টুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার দেয়ার লেখক জেলে যায়। সাংবাদিক জেলে যায়, শিক্ষক জেলে যায়। আর গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায় দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, মজুতদার ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেটের মেম্বার আর অথর্ব সরকারী কর্মচারি।

পুরো জাতি আজ দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে যারা মনে করছে এই স্বৈরাচার-স্বেচ্ছাচার বৈধ। তারা হয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পুঁজিপতি, দুর্নীতিগ্রস্থ আমলা, মজুতদার বা চোরাকারবারী। রাষ্ট্র যতো স্বৈরাচারী হবে ততো তাদের ব্যবসার মঙ্গল। তারা মনে করে তাদের দুর্নীতি এবং লুটপাটের বিপক্ষে কথা বলা যাবে না।

অপরদিকে ধ্বংসস্তুপের ছাই থেকে বারবার জন্ম নেয়া ফিনিক্স পাখি- জনতা। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের যোদ্ধা তারা। এক সাড়ি জেলে গেলে অপর সাড়ি সামনে এসে দাঁড়ায়। জেল-জুলুম বা মৃত্যুর উর্দ্ধে তারা। তারা- জনতার শক্তি।

মানুষের দেহের মৃত্যু আছে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মৃত্যু নেই। এইরকম দুর্নীতি ও লুটপাটগ্রস্থ একটি রাষ্ট্র, বাংলাদেশী জাতি আশা করে না। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা অবশ্যই রেখে যাবো- একটি সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ।

অন্যায়-স্বৈরাচার রুখে দাঁড়ান।
দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠস্বর একত্রিত করুন।
বিশ্বাস করতে শিখুন, আগামীর বাংলাদেশ- জনতার বাংলাদেশ।

16 October 2019

দৈনন্দিন আলাপ ২৪

১৯৪৭ এর আগে আমাদের শত্রু কারা এটা চিহ্নিত করতে আমাদের সমস্যা হতো না। আমরা সাদা চামড়ার বৃটিশদের খুব সহজেই আলাদা করতে পারতাম। বৃটিশরা আমাদের লুটপাট করে নিজেদের দেশকে শিল্পোন্নত করেছে, আর আমাদের বলেছে ব্লাডি ব্ল্যাক।  আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের শত্রুদের তাড়িয়েছি। 

১৯৪৭-৭১ আমরা শত্রু চিহ্নিত করতাম মুখের ভাষা দিয়ে। ৫২ তে ভাষার লড়াই থেকে শুরু করে ৭১ এ মুক্তিসংগ্রাম পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মসম্মান বিসর্জন দেইনি। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশও বৃটিশদের উত্তরাধিকার হিসাবে আমাদের উপর চালিয়েছে লুটপাট। আমাদের টাকা তারা পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গেছে। আমরা থেকেছি ব্লাডি বাঙ্গাল হয়ে। 

১৯৭১ এ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, যে দেশের নাম বাংলাদেশ, যে দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু আমাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। আমাদের দেশের ক্ষমতায় এখন আমাদের নিজেদের দেশের লোক। অথচ লুটপাট কমেনি। পরাধীন থাকলে আমরা বৃটিশ বা পাকিস্তানিদের দোষ দিতে পারতাম। এখন এই স্বাধীন দেশে আমাদের শত্রু কারা? 

বাংলাদেশের শত্রু চিহ্নিত করা এখন খুব কঠিন। তাদের গায়ের রঙ আমাদের মতো, মুখের ভাষা আমাদের মতো, কেবল কয়েকটি আচরন বাদ দিয়ে। কিভাবে সাধারণ জনগণ থেকে জনগণের শত্রু আলাদা করবেন? 

এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই প্রায় ৫০ বছর পর, বাংলাদেশের শত্রু তারাই যারা বিভিন্নরকম দুর্নীতির সাথে যুক্ত। আগে অন্যরা লুটপাট করে দেশের সম্পদ বাইরে পাচার করেছে। এখন দুর্নীতিবাজরা বাংলাদেশের সম্পদ বাইরে পাচার করছে। এই দুর্নীতিবাজদের কাছে বাংলাদেশের জনগণ, ব্লাডি গরিব... যাদের রক্ত পানি করা টাকা তারা বিদেশ পাচার করছে, তাদের কোনো দাম নাই। তাদের কাছে তার বৌয়ের দামী হীরার আংটি জরুরি, ছেলে-মেয়েদের জন্য বিদেশের ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট জরুরি। 

বাংলাদেশের শত্রু এখন এই দুর্নীতিবাজরাই। এদের দেশ থেকে তাড়াতে হবে। অবশ্য দেশ থেকে কি তাড়াবেন? এরাতো বাইরে সব টাকা নিয়েই গেছে, ফ্যামিলির সবাইকে বাইরে পাঠিয়েও দিয়েছে, এখন শুধু নিজের যাওয়া বাকি। এদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ধরে এনে বিচার করতে হবে। 

দুর্নীতিবাজ কারা?

১. সরকারি দায়িত্ব যারা অবহেলা করে, সরকারি দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে যারা অবৈধ অর্থ কামাই করে, সরকারি কাজ করে দেয়ার জন্য যারা অতিরিক্ত অর্থ- ঘুষ বা উপহার দাবী করে এবং গ্রহণ করে। যে কোনো সরকারি পদ এর আওতায় পরবে- মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের পিয়ন পর্যন্ত। 

২. সে সমস্ত ব্যবসায়ী যারা পণ্য মজুত করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়ায়। যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, অবৈধ অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করে। 

৩. সে সমস্ত রাজনীতিবিদ যারা রাজনীতিকে টাকা কামাইয়ের পথ হিসেবে দেখে। বিদেশে অর্থ পাচার করে এবং বিনিয়োগ করে। 

তবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য দুর্নীতি করা সহজ। একটা বালিশ ১ লাখ টাকা দিয়ে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত সহকারী কিনলে তাকে চড়ায়া কানাপট্টি লাল করে ফেলা হতো। কিন্তু সরকারি কাজে জবাবদিহিতা নাই, বিচার নাই, দেখার কেউ নাই। শাস্তি কি হবে? ওএসডি, অব্যহতি... কিন্তু সরকারি টাকা মানে জনগণের টাকা দুর্নীতি করার জন্য কেনো তাদের দ্রুত বিচারের সম্মুখীন করা হবে না? 

বাংলাদেশের শত্রু এখন এই দুর্নীতিবাজরাই। এদের না ঠেকানো গেলে দেশ আগাবে না। 

10 October 2019

দৈনন্দিন আলাপ ২২

বাংলাদেশ আজ অতিক্রম করছে এক বিপর্যস্ত সময়। বাংলাদেশের অসৎ রাজনীতিবিদরা এখন সীমাহীন লোভে জর্জরিত, একমাত্র টাকা কামানোই যাদের ধ্যানজ্ঞানে পরিনত হয়েছে। তারা বুঝতে পারছেনা তারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আসলে বিষ রেখে যাচ্ছে। তারা মনে করছে প্রচুর সম্পত্তি রেখে গেলে আমার ছেলেমেয়েরা বিদেশে ভালো থাকবে। তারা এটা বুঝতে পারছেনা, তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের ছেলেমেয়েদের জবাবদিহি করা লাগতে পারে। 

সরকারি অফিসগুলো পরিনত হয়েছে ডাস্টবিনে। সেখানে যারা কাজ করছে তাদের মেধা এবং যোগ্যতা নিয়ে তো প্রশ্ন তোলাই যায়, উপরন্তু তারা দুর্নীতিতে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। যে যার মতো দেশ লুটেপুটে খাচ্ছে। মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত, একটা স্ট্রাকচারের সবাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এবং তারা এইখানে এগুলাই চলে বলে দুর্নীতিকে নিয়মও বানিয়ে ফেলেছে। বরং যারা দুর্নীতি না করে বেতনের পয়সায় চলতে চাইছে তাদের ব্যাকডেটেড বলে গালাগাল করছে। এভাবে সট্রাকচার চলতে পারেনা। যেকোনো সময় এই স্ট্রাকচার তার মন্ত্রী থেকে পিয়ন সবাইকে নিয়ে কলাপ্স করবে। 

কোন জায়গায় দুর্নীতি নাই? রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, ফরিদপুর মেডিকেল, চট্টগ্রাম মেডিকেল, সবগুলো সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, সবগুলো সরকারী দপ্তর-অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন থেকে পৌরসভা, সব জায়গায়। যে দেশের রাজনীতিবিদরা দুর্জন আর সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসৎ-দুর্নীতিগ্রস্থ,  সেখানে জিডিপির গল্প কয়দিন টিকে, দেখা যাক। 

যে দেশে বিচারব্যবস্থা বলতে কিচ্ছু বাকি নাই, যে দেশে একের পর এক খুন-ধর্ষন হতে থাকে, যে দেশে একটা খুনিকে ধরতে হলেও প্রধানমন্ত্রীকে কনসার্ন হওয়া লাগে, সে দেশ চ্যাম্পিয়ন অব দা আর্থ হলেই কি, গ্যালাক্সি হলেই কি? একটা বিচার দেখান যেটা বিচারবিভাগ স্বাধীনভাবে করেছে। একটা খুন বা ধর্ষণ বা যে কোনো ফৌজদারী অপরাধের বিচার। আছে? তনু, নুসরাত, বিশ্বজিৎ, একটা বিচার দেখান... স্বাধীন বিচার বিভাগের চেয়ে একটা সার্কাসের দল বেশি স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

পুলিশ-র‍্যাব পরিনত হয়েছে রক্ষীবাহিনীতে। আগে রক্ষীবাহিনী সরকারের স্বার্থ দেখে রাখতো, এখন এরা রাখে। এরা ২ টা ইয়াবা সাথে পেলে মাদকের মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা খায়। আর ২ কোটি ইয়াবা পেলে তাকে প্রটোকল দেয়, স্যার বলে। এরা আল-জাজিরাকে সাক্ষাতকার দিলে আইসিটি আইনে জেলে নিয়ে অত্যাচার করে। আর যুবলীগ-ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ভাই বলে, সালাম দেয়, আগেপিছে দৌড়ায়। 

একটা খুনের বিচার না হলে আরেকটা খুন হয়। বিশ্বজিৎ এর খুনিরা সাজা পেলে কয়টা খুন কম হতো আল্লাহই জানে। যেহেতু বিশ্বজিৎ এর খুনিরা সাজা পায়নি, তাই আরো কতো খুনি গজিয়ে গিয়েছে... তনুর ধর্ষক সাজা পেলে আজ কতোগুলো নারী ধর্ষনের হাত থেকে বেচে যেতো। কয়েকদিন পর যখন নুসরাতের খুনিরা ঘুরে বেড়াবে, তখন বেশ কয়েকজন ধর্ষক-খুনি খুন করতে উৎসাহ পাবে। এই উৎসাহের জন্মদাতা কে- এই রাষ্ট্র, এই সরকার আর এই বিচারব্যাবস্থা। 

চুপ থাকা কোনো সমাধান নয়। চুপ থাকলে অন্যায় আমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে। অন্যায় দেখে আপনি মুখ লুকাতে পারবেন, কিন্তু আরো খারাপ সময় আসছে। আপনার ছেলে লাশ হয়ে বাড়িতে আসবে, আপনার মেয়ে ধর্ষিতা হয়ে কাদতে কাদতে দড়িতে ঝুলে পরবে, আপনার বৌয়ের গায়ে হাত বুলিয়ে দেবে ক্ষমতাসীনদের বাচ্চা শাখা। সময় থাকতে থাকতে প্রতিবাদ করতে শিখুন। নিজের দাবীর কথা নিজে বলতে শিখুন। নিজের স্বচ্ছ আওয়াজ পৌছে দিন দুর্নীতিবাজদের কানের গোড়ায়। 

মনে রাখেন তাদের সংখ্যা এবং শক্তি আপনাদের চেয়ে কম। কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ। সংঘবদ্ধ চক্রের মোকাবিলা করতে হবে সংঘবদ্ধ হয়েই। আপনার পাশের ভাইটির পাশে কাধে কাধ মিলিয়ে দাড়ান, আপনার বোনটিকে সাহস দিন আপনি আছেন। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। প্রয়োজন শুধু ভালো হাতগুলোর একতা। 

এই কথা গুলো সবাই জানে, তবু কেন বলতেছি? নিজেরে হালকা করার জন্য। মাঝেমাঝে নিজেকে খুব ভারী মনে হয়। চিৎকার গলার কাছে দলা পাকিয়ে থাকে। মনে হয় সব কিছু লাথি দিয়ে ভেঙে ধ্বংস করে দেই।   

7 October 2019

দৈনন্দিন আলাপ ২১

কি বলবো বলেন? কতো কথা গিলে ফেলি...
সীমাহীন লোভ মানুষকে নিয়ে গেছে ধ্বংসের কিনারায়। মানুষ আজকে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে, সৎ থেকে ভুল করছিনাতো!

ভেবেছিলাম দুর্নীতি নিয়ে কয়েকটা কথা বলবো। দুর্নীতি আজকে ফাসের মতো গলায় আটকে আছে। সব জায়গায় দুর্নীতি। মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী সকল প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি করাকেই নিয়ম মনে করছে। এই প্রত্যেকটা কাজের জবাব দেয়া লাগবে। আল্লাহর বিচার আল্লাহ করবেন, মানুষের দুনিয়ায় মানুষই বিচার করবে।

তারপর ক্যাসিনো, যুবলীগ ইত্যাদি ইস্যু। সাধারণ মানুষ সারাদিন কাজ করে দিনের খাবার দিনে জোগায়। সারাটা দিন খাটে। আর কেবল যুবলীগ করার কারনে এরা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। বিশেষ সুবিধার ভার বাংলার মানুষ আর বহন করতে পারছে না। জনতার নাভিশ্বাস উঠে গেছে। যেকোনো দিন তারা এইসব চেতনাধারী, বঙ্গবন্ধুকে বাজারে বিক্রিকারী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা অন্যান্য আর সকল লীগকে রাস্তায় ফেলে পায়ের গোড়ালি দিয়ে পিষে ফেলবে।

গুটিকয়েক লোকের জন্য বাংলাদেশ আজকে আগাতে পারছেনা। এদের ছাড়াই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। লোভী রাজনীতিবিদদের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তি আর বেশি দূরে না। বাংলাদেশে এখন জনগণের বিপ্লবের সকল প্রতিবেশ বিদ্যমান। 

এরমধ্যেই শেখ হাসিনা ভারতের সাথে চুক্তি করলেন। চুক্তির বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত না করেই চুক্তি করলেন। জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী চুক্তি তিনি আগেও করতে পারেন নাই, এখনো পারেন না। বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে ভারতের স্যাটেলাইট স্টেইটে। বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারনে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি হলে, এর দায় বর্তমান সরকারপ্রধানকে নিতে হবে।

আবার এটা নিয়ে কথা বলার কারনে বুয়েটের এক ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। পেটানোর আগে তার ফোন, ফেসবুক, মেসেঞ্জার চেক করা হয়েছে। যাই ঘটুক পক্ষেই থাকতে হবে কেন? সমালোচনার অধিকার, কথা বলার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করি নাই।

কথা না বলে থাকতে চাইতেছিলাম। আর সবার মতো চুপ থেকে পরিবার-সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে বাস করতে চাইছিলাম। কিন্তু ঐ যে- অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে... 

11 September 2019

দৈনন্দিন আলাপ ১৯

বালিশ, পর্দা, পুকুর ট্রেনিং একের পর এক দুর্নীতির খবর বের হয়ে চলেছে। জনগণ কয়টা দুর্নীতির খবর মনে রাখবে, কয়টার বিপক্ষে কথা বলবে? জনতা আজ বিরক্ত। এরকম পরিস্থিতিতে কেউ যদি এগুলো দমানোর বিপরীতে বলে এগুলো ছিচকে চুরি, আমাদের কি করা উচিত? আমাদের উচিত সরকারী কর্মকর্তা আর ক্ষয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের তাদের সীমা মনে করিয়ে দেয়া।
দুর্নীতি কমানোর জন্য এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় নাই। ধারাবাহিক দুর্নীতিগুলোও বন্ধের কোনো নমুনা নাই। রাস্তায় চাদা দিতে দিতে পরিবহন শ্রমিকরা ত্যাক্ত। জনপ্রতিনিধিদের বরাদ্দ বাজেটের ভাগ দিতে দিতে ঠিকাদাররা বিরক্ত। লোকজন ব্যাবসা করবে কেমনে?
দুর্নীতি অর্থাৎ জনতার হক নষ্ট করা, আল্লাহর দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় অপরাধ। বাংলাদেশের একেকজন দুর্নীতিবাজের হাতে যে পরিমান টাকা, তারচেয়ে অনেক কম টাকায় পাশের দেশ ভারত চন্দ্র অভিযান পরিচালনা করেছে। আমরা চন্দ্রে অভিযান না করি ঠিক, বাড়ির পাশের রাস্তাটা তো ঠিক করতে পারি, নতুন উদ্যোক্তাদের বিনাসুদে ঋণ দিয়ে তাদের উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করতে পারি, মরণাপন্ন দুইজন কৃষককে ভর্তুকি দিতে পারি, দুইজন বিধবাকে সেলাই মেশিন কিনে দিতে পারি।
আমরা জানি না ঠিক কার টাকায় দুর্নীতি করা হচ্ছে? টাকাটা ভ্যাট-ট্যাক্সের মাধ্যমে সরকারের কাছে যায়, সরকার সেটা বাজেট করে, বন্টন করে। সেখান থেকে দুর্নীতি হয়। জনতার টাকার এই নিদারুণ অপচয় ঠেকাতে না পারলে জাতি হিসেবে আমাদের পতন অনিবার্য। জিডিপির ১০% গ্রোথের পরিসংখ্যানও এই পতন ঠেকাতে পারবেনা।
আমাদের এক হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। দুর্নীতি ঠেকাতে পারা এই শতকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও তার জনগনের জন্য একটা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের সন্তানকে, আমাদের পরের প্রজন্মকে একটা বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দিতে; দুর্নীতি বন্ধ করার কোনো বিকল্প নাই।

13 June 2019

দৈনন্দিন আলাপ ১৬

অনাচার মানে মূলত যে আচরনটা করার কথা সেটা না করা। আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে, সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে আচরন করাকেই অনাচার বলে। অনাচারের আবার বিভিন্ন মাত্রা আছে। বড়, ছোটো অনাচার। যেমন বাইক চালানোর সময় হেলমেট না পরা ছোটো অনাচার। বাইক চালানোর কিছু আদবকায়দা আছে। এরমধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ আদব হচ্ছে বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা। এতে নিজের মঙ্গল। হেলমেটের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় চালকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কিছুটা কমে আসে। 

বড় অনাচার কোনটা? যে অনাচার বৃহৎ সমাজ বা রাষ্ট্র বা জনগণের বিরুদ্ধে। যেমন দুর্নীতি। এসপি হারুনের ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে রাষ্ট্র এবং জনগণের বিরুদ্ধে অনাচার। একজন এসপির বেতন কতো? তার পরিবারের কতোজন চাকরি বা ব্যবসা করে? কতোজনের কতো বছরের কামাই এই ৪ হাজার কোটি টাকা। জনগণের কষ্টের টাকা নিজের আমেরিকায় বাড়ি কিনার পেছনে ব্যয় করার যে মানসিকতা তাই বড় অনাচার। 

ছোটো অনাচার দুই-একবার বললে বন্ধ হয়। কেউ একজন হেলমেট পরছেনা, কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করলে, ১-২ বার জরিমানা করলেই পরা শুরু করবে। নিজে পরবে, আরেকজনকে বলবে- ব্যাটা হেলমেট পর। কিন্তু বড় অনাচার এইভাবে বন্ধ হয় না। আমেরিকায় যে বাড়ি কিনতে গেছে সেকি আর দেশে আসবে? সে কি জানেনা দেশে আসলে তার কি হতে পারে? বড় অনাচার বন্ধ করার একটাই উপায়, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। তাতে যতো কষ্টই আসুক না কেন! অনাচার প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধ শক্ত হবে। কারণ যে খারাপ লোকটা আমেরিকা বাড়ি কিনতে যাচ্ছে তারে আপনি গিয়া বললেন- ভাই, বাড়িটা কিন্নেন না। আর সে শুনলো!? 

সে কখনো শুনবে না। কারণ আপনার কথা শুনলে, জনগণের কথা ভাবলে তার ব্যক্তিগত সুখশান্তি ব্যহত হবে। জনগণের দুইবেলা খাবারের চে, তার কাছে তার বাচ্চার আমেরিকার বাড়ি গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে কি করতে হবে? তাকে প্রথমে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হব। সে যদি আমেরিকা থাকে আমেরিকার বাংলাদেশী কম্যুনিটি তাকে বয়কট করবে। এবং বাকী কম্যুনিটিগুলোতে তাকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তাকে দেখিয়ে দিয়ে বলতে হবে- এই লোক বাংলাদেশের জনগণের হক মেরে খেয়ে আমেরিকা এসে আমোদফুর্তি করছে। এবং এর পাশাপাশি তাকে আইন ও বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করতে হবে। দেশীয় আইনে তার বিচার হতে হবে। সরকার গরিমসি করলে জনতাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণশুনানি করবে। কারণ জনতাই সরকার। 

বিচার বা গণশুনানির রায় আমেরিকা বা যে দেশে সে থাকবে সেখানে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা দেশে এম্বাসি ঘেরাও করে হোক বা বিদেশে মিশন পাঠিয়ে হোক। পৃথিবীর যে প্রান্তেই সে থাকুক না কেন, তার সাথে থাকা অর্থসম্পদ বাংলাদেশের জনগণের কষ্টের কামাই। 

এসপি হারুন বা আমেরিকায় বাড়ি উদাহরণ মাত্র। কতো শত দুর্নীতির মধ্য দিয়ে জাতি এক অস্থির সময় পার করছে, তার ইয়ত্তা নাই। বাংলাদেশের দুর্নীতি বাইরে থেকে এসে কেউ বন্ধ করবে না। এটা বন্ধ করতে হবে বাংলাদেশীদেরই। আজ করলেও করবেন, কাল করলেও করবেন। তাহলে আজ কেন নয়? কণ্ঠে আওয়াজ তুলুন। 

সাম্প্রতিক খবর, ব্যাংকগুলোতে ঋণখেলাপির পরিমান ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকে চাকরি করেন মাত্রই জানেন, ব্যাংকগুলোতে টাকা নাই, আছে কেবল কাগজ আর হিসাব। এই ঘাটতি সরকার আর ব্যাংকগুলো কোত্থেকে পূরন করবে কে জানে? মুদ্রাস্ফিতি বাড়ছে, বেকারত্ব বাড়ছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে। সাধারণ মানুষ এইসব টার্ম বোঝেনা। তারা বোঝে ৩৫ টাকার চাল ৫০ টাকা হইছে। আগে ১ কেজি গরুর মাংস কিনতো, এখন আধা কেজি কিনা সেখানে আলু বাড়ায়া দিয়া রানতে হবে। তাদের কণ্ঠ হয়ে কথা বলুন। 

কেন কথা বলবেন? দেশ দুর্নীতিমুক্ত হইয়ে আগায়া গেলে আপনারই লাভ। আপনার বাচ্চার লাভ, সে বড় হয়ে নিজেকে সভ্য বাংলাদেশী বলে পরিচয় দিতে পারবে। আপনার ভাস্তির লাভ, যার বয়স এখন ৩ বছর। সে রাতে কাজ শেষ করে নির্ভয়ে বাসায় আসতে পারবে। রাতে আপনার নাতিকে গল্প শোনাবে, আগে বাংলাদেশে দুর্নীতি ছিলো, কোনো কাজ ঠিকমতো হতো না, এখন দেখো এগুলো নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু মুক্তি আসে নাই। যে অনাচারে আগের বৃটিশরা, পাকিস্তানিরা আমাদের ফেলে রেখেছিলো; আফসোস, এখন নিজের জাতির লোকেরাই সেই আচরন করে। এই কারণে স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরেও আমাদের ইনায়া বিনায়া বলতে হয়- সুশাসন আনেন, দুর্নীতি কমান, স্বচ্ছতা বাড়ান, জবাবদিহিতা বাড়ান। মনে রাখবেন, সরকার সবসময় তোষামোদকারীদের দখলে থাকে। তারা সরকারের সামনে মধু ঢালে, আর পেছনে পুকুর কাটতে কাটতে সমুদ্র বানায়া ফেলে। কিন্তু সরকার কে? 

১৯৪৭ সালে লর্ড মাউন্টব্যাটেন, ভারতবর্ষের শেষ ভাইসরয়, বৃটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তার তেজস্বী পোষাকগুলো রাষ্ট্রপতির ব্যান্ডবাদকদের দিয়ে দেয়া হলো। তাই বেশি অহংকার করতে নেই। কিসের অহংকার? আজকে যেটা মাউন্টব্যাটেনের পোষাক, কালকে সেটা ব্যান্ডবাদকের পোষাক। সরকার আসে, থাকে, চলে যায়। দেশ জনতার, দেশ চলবেও জনতার ইচ্ছা অনুযায়ী। জনতাই সরকার। 

জনতা যদি খারাপ থাকে, জনতা যদি কষ্টে থাকে, জনতা যদি না খায়া থাকে, তারা যদি দেশ থেকে চলে গিয়ে সুখী হতে চায়, সরকার দিয়া আমরা কি করবো? জনতার স্বার্থই জাতীয় স্বার্থ। 

তাই, জয় জনতা শ্লোগান তুলুন, জনগণের পক্ষে থাকুন। 

4 June 2019

দৈনন্দিন আলাপ ১৩

আড়ংয়ের ঘটনাটায় অবাক হওয়ার কিছু নাই। সমাজে অসৎ লোকের সংখ্যা বেশি। সমাজে ৭০০ টাকার সুতি পাঞ্জাবি ১৫০০ টাকায় বেচার লোক বেশি। রোজা আসলে দাম বাড়ানোর লোক বেশি, ভাড়া বাড়ানোর লোক বেশি। কিছু লোক থাকে সৎ। তাদের বিভিন্নভাবে আটকানো হয়। হুমকি ধামকি, জেল-জরিমানা। সরকারের ভেতরে থাকলেও আপনি সংখ্যালঘু। বদলি করা হবে, ওএসডি করা হবে। উপর থেকে স্যারেরা প্রেসার দিবেন, কি দরকার বড় লোকজনের সাথে দাঙ্গাহাঙ্গামায় যাওয়ার। 

বাংলাদেশ আজ বড় দুইটা দলে বিভক্ত। একদিকে খেটে খাওয়া লোকেরা। যারা দিনের খরচ তুলতে সূর্য উদয় থেকে অস্ত পরিশ্রম করেন। সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খান। বাচ্চাদের ভালো খাওয়ানোর স্বপ্ন দেখতে দেখতে রাত পার করেন। লিচু খেতে চাইলে বাচ্চাদের নিজের হাতে গলা টিপে মেরে টয়লেটে রেখে আসেন।  

আরেকদিকে সহজে বড়লোক হওয়ার ধান্ধায় ঘোরা লোকেরা। এরা এস্পি হারুন। মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করে এরা, আম্রিকায় বাড়ি কিনতে গিয়ে ধরা খায়। এদিকে সব বড় ব্যবসায়ীরা, মজুদদাররা, সিন্ডিকেটের লোকেরা আর অসৎ রাজনীতিবিদরা। এরাই রোজায় খাদ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, দাম বাড়িয়ে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত লোকদের কষ্ট দেয়। এরা বেশি দামে জিনিশ বিক্রি করে, ভেজাল জিনিশ বিক্রি করে রাতারাতি ধনী হওয়ার চেষ্টা করে। 

আজকে বাংলাদেশে এই দুই দল মুখোমুখি অবস্থানে। বাংলাদেশের গরীব খেটে খাওয়া মানুষ আর এগুলো সহ্য করতে পারছেনা। যারা কিছুটা সংবেদনশীল তারা তাদের মতামত বিভিন্ন সময় বলে চলেছেন। একদিকে উন্নয়ন এর গল্প আরেকদিকে হাহাকার। 

হজরত আলীর একটা কথা মনে পরলো। তিনি বলেছিলেন, 'যারা অনাচার করে, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করাও এক ধরনের অনাচার।' 

অনাচার এইখানে বৃহদার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অনাচার বলতে এইখানে জুলুম-অন্যায় থেকে শুরু করে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, খাদ্য মজুদ এবং খাদ্যে বিষ দেয়া সবই বোঝানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায় সবক্ষেত্রে এই অনাচার সংগঠিত হতে পারে। 

লোকেরা ইতিমধ্যে অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করছে। দেশকে আগায়া নিয়া যাইতে হইলে এই কথা বলার বিকল্প নাই। বাংলাদেশকে জাপান-সিঙ্গাপুর বানানোর দরকার নাই। বাংলাদেশকে বাংলাদেশই বানান। সিঙ্গাপুর কি কখনো ব্রাজিল হইতে চাইছে, ফ্রান্স হইতে চাইছে? বাংলাদেশকে যারা সিঙ্গাপুর বানানোর কথা বলে তারা একে মূর্খ, জানেনা কখন একটা দেশের উন্নয়ন হয়, দ্বিতীয়ত এরা মিথ্যুক, এরা জানে বাংলাদেশ কখনো সিঙ্গাপুর হবেনা। এরমধ্যে যতটুক লুটপাট করা যায়। 

বাংলাদেশকে বাংলাদেশই বানান। এটা বানানো খুব বেশি কষ্ট না। যার যা কাজ তা ঠিক মতো করলেই দেশ আগাবে। বাংলাদেশের মানুষদের অনেকে অলস বলেন, অকর্মঠ বলেন, আসলেই কি তাই? যে দেশের মেয়েরা-মায়েরা ভোর ৫ টায় উঠে বান্নাবান্না করে ৭ টায় গার্মেন্টসে যায়, আবার রাত ৮ টায় বের হয়ে এসে বাসার কাজ করে রাত ১২ টায় ঘুমাতে যায়, তাদের আপনি অলস বলেন? অকর্মঠ বলেন? কাজ তারা ঠিকই করতেছে,পরিশ্রম ও করতেছে, দাম পাইতেছে না। 

হজরত আলীর কথায় আসি। যারা এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজদের পক্ষে থাকবেন, যারা তাদের সাথে এমনকি ভালো ব্যবহার করবেন তারা অনাচারী। খারাপ রাজনীতিবিদদের সাথে যারা ভালো ব্যবহার করবেন তারাও অনাচার করবেন। অসৎ ব্যবসায়ীদের সাথে যারা ভালো ব্যবহার করবেন তারাও অনাচার করবেন। অন্যায়ের সহযোগী হিসেবে আপনারাও ইতিহাসের ডাস্টবিন এ নিক্ষিপ্ত হবেন।

গুটিকয়েক লোকের জন্য বাংলাদেশ আগাইতাছে না। তাদের ভয় দেখাইতে হবে, ভূতের ভয়, গরিব মানুষের ভূতের ভয়।