Showing posts with label ধর্ম ও রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম ও রাজনীতি. Show all posts

8 February 2026

জামায়াত কেন বারবার ইতিহাসের ভুল দিকে থাকে

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুসংগঠিত ও আদর্শিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। দলটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সমাজ ও রাজনীতিতে অনেক বছর ধরেই গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে দলটি আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে, কথা থাকে ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বারবার ইতিহাসের ভুল দিকে ছিলো দলটি! ইতিহাসের ভুল দিক বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, বিস্তারিত না হলেও, কিছুটা হয়ত জেনে নেওয়া সম্ভব!

১। পাকিস্তান জন্মের বিরোধিতা

জামায়াতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জটিলতা শুরু হয় পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা দিয়ে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মওদুদীর দৃষ্টিতে মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি রাষ্ট্র এক বিষয় ছিল না। দলটির লোকজন পূর্ণ শক্তি দিয়ে ভারতভাগের বিরোধিতা করে। তারা পাকিস্তানকে কাফেরদের রাষ্ট্র বলেও ট্যাগ দেয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর জামায়াত সেখানে রাজনীতি শুরু করলেও, ‘দেশবিরোধী’ (অর্থাৎ, পাকিস্তান-বিরোধী) তকমাটি তাদের ওপর দীর্ঘকাল ছায়ার মতো লেগে ছিল; যা সাধারণ মানুষের সাথে তাদের সংযোগ স্থাপনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি ও দাঙ্গা

পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পেরে, জামায়াত রাজনীতি করার জন্য একটি সামাজিকভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসে। ১৯৫৩ সালে তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানায়। শুধু দাবি জানিয়ে ক্ষান্ত হয়নি দলটি। নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সংঘবদ্ধ দাঙ্গা ঘটায় দলটি। লাহোরে কাদিয়ানীদের বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে (বা উপাসনালয়) আক্রমণ করে জামায়াতের কর্মীরা। এসময় কাদিয়ানীদের সহায়-সম্পত্তি লুট করা হয়, প্রায় ২০০-এর মতো কাদিয়ানীকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর জামায়াতের কর্মীদের সংঘবদ্ধ আক্রমণ (মব-সন্ত্রাস বা অনলাইনে বটবাহিনী) আজকে নতুন কিছু নয়। এটা তাদের অনেক পুরনো প্রবণতা। মূলত দলীয় ক্যাডারভিত্তিক কাঠামোর কারণে এই আক্রমণ করা তাদের জন্য বেশ সহজ।

৩। নারী নেতৃত্ব হারাম ফতোয়া দিয়েও ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন

জামায়াত মনে করে নারী নেতৃত্ব হারাম। অথচ তাদের বেশিরভাগ সময়েই নারীদের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে রাজনীতি করতে হয়। এটাকে তারা ‘কৌশল’ হিসেবে উপস্থাপন করে। এই কিছুদিন আগেও তারা বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বে জোটসঙ্গী হিসেবে ছিলো। ১৯৯১ সালে প্রথম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মেনে নেয় বাংলাদেশ জামায়াত এরপর, ১৯৯৪ সালে তার ওপর অনাস্থা এনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ছায়ায় যায়। এরপর ২০০১ সালে আবার জোট করে খালেদা জিয়ার সাথে সংসদে আসে, দলটির দুইজন মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে। তবে, এই কৌশলের ইতিহাসও বেশ পুরনো। পাকিস্তানেও ১৯৬৫ সালের নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন দেয় জামায়াত। অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে পরে কৌশলগত ও আদর্শিক ভুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

৪। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশে) ভূমিকা

১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ছিল দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক বিপর্যয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন ও সাধারণ মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় দলটির ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত দলটিকে সারাবিশ্বে গণবিরোধী ও প্রগতি-বিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার পেছনে কারণ হিসেবে ছিলো, পাকিস্তানের স্বাধীনতার বিরোধীতা করার যে ভুল, তার কাফফারা দেওয়া।

সক্রিয়তার পাশাপাশি, দলটি বাংলাদেশ-বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের (মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি) তুলনায় বেশি তৎপর ছিলো। নিজেদের পাকিস্তানপন্থী প্রমাণ করতে এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে নিয়েছিল তারা। এই অতি-সক্রিয়তা ও অতি-তৎপরতা আমরা ছাত্রলীগের মাঝে লুকিয়ে থাকা ছাত্রশিবিরের (জামায়াতের ছাত্র সংগঠন) মাঝেও দেখেছি; সেখানে নিজেদের ছাত্রলীগ প্রমাণ করতে তাদের সবকিছুই(!) একটু বেশি বেশি করতে হয়েছে। যাই হোক, এটাকেও তারা একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করে।

৫। জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে মন্ত্রিসভায় যোগদান

এরপর, জেনারেল জিয়াউল হকের (১৯৭৭-১৯৮৭) সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে পাকিস্তান জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল একটি বড় রাজনৈতিক ভুল। জেনারেল জিয়ার ইসলামীকরণের প্রলোভনে পড়ে তারা স্বৈরশাসকের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে পাকিস্তান জামায়াত সেখানকার মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের সমর্থন হারায়। এরপর, নব্বইয়ের দশকে বেনজীর ভুট্টোর পিপিপিকে রুখতে এস্টাবলিশমেন্টের (পাকিস্তান মিলিটারি) পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত আইজেআইতে যোগ দেয় জামায়াত। ফলে, দলটি নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগের লেজুড়বৃত্তিক দলে পরিণত হয় ও নিজস্ব ভোটব্যাংক হারায়।

৬। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অস্পষ্ট নীতি

এরপর, জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ছিল দোদুল্যমান। একদিকে রাজপথে আন্দোলন, অন্যদিকে সরকারের সাথে সমঝোতা, এই দ্বিমুখী নীতি সমর্থকদের বিভ্রান্ত করে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি তালেবান যখন দেশটিতে হামলা চালাচ্ছিল, তখনও জামায়াতের অবস্থান ছিল অত্যন্ত অস্পষ্ট। তারা সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করলেও সরাসরি টিটিপির নাম নিয়ে সমালোচনা করতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। এই মনোভাব পাকিস্তানিদের মধ্যে জামায়াত সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি করে।

৭। হাতিয়ার হিসেবে ইসলামকে ব্যবহার

জামায়াত প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ইসলামকে যথেচ্ছা ব্যবহার করে আসছে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার সময় তারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে, কারণ এতে নাকি উপমহাদেশের ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাকিস্তান ১৯৫৬ সালে নতুন সংবিধানে নিজেদের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করলে, এটাকে জামায়াত নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখে। আবার, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়, তারা বিরোধিতা করে; এবং পাকিস্তান আর্মির সাথে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগী হয়। কারণ হিসেবে, এবারও ইসলামকে ব্যবহার করে তারা, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে নাকি ইসলাম বিপন্ন হবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াতের কাছে কথা বলার মতো খুব বেশি বিষয় নেই।

তবে মনে রাখা ভালো, ১৯৮৪ সালে পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউল হক একটা গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। গণভোটটি ছিলো মূলত জিয়াউল হককে ক্ষমতায় রাখতে চান কিনা! তবে সেখানে শব্দগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে, ‘না’ ভোট দেওয়ার মানে হলো আপনি কোরআন-সুন্নাহর আলোকে পাকিস্তানের আইন চলুক, এটা চান না। যাই হোক, না জানলেও ক্ষতি নেই, হাস্যকর সেই গণভোটে ‘হ্যা’ পড়েছিল ৯৮.৫৩%। একইভাবে, জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বললে সেটা ইসলামের বিরুদ্ধে চলে যা! জামায়াতে ইসলামের কথা মতো না চললে, সেটা ইসলামবিরোধিতা হয়ে যা, কোরআন-সুন্নাহের বরখেলাফ হয়ে যা

ষাটের দশকের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতি করা কঠিন। জামায়াত তাদের দলীয় কাঠামো আধুনিক করতে দেরি করে ফেলেছে। সম্ভবত, এবারই প্রথমবারের মতো (হয়ত একমাত্র) গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে ইতিহাসের ঠিক দিকে রয়েছে তারা। কিন্তু, ধারণা করা যায়, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক স্বভাবের কারণে, খুব দ্রুতই তারা আবার মানুষের মুক্তির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিবে। নিজেদের সবকিছু ইসলামের নামে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সামনে ভোট, আর আমাদের সামনে খুব বেশি সুযোগও নেই। দেখা যাক কী হয়!

9 June 2019

দৈনন্দিন আলাপ ১৫

পৃথিবীর ইতিহাসে সৌদি রাজপরিবার একটা অভিশাপের নাম। পৃথিবীর একমাত্র দেশ সৌদি আরব যেদেশের নাম একটা পরিবারের নামে। সৌদি আরব কেবল তেল আর টাকার জোরে এমন এমন আচরণ করে, অন্যান্য দেশ এরকম করলে অনেক আগেই তাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেয়া হতো। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ন্যুনতম প্রতিবাদ বা সমালোচনাও সহ্য করেনা সৌদি সরকার। যেনতেন ভাবে তাদের দমন করাই সৌদি সরকারের কৌশল।

স্বাধীনচেতা খাশোগিকে তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের লোকেরা। আরব বসন্তের সময়কালের এক বিদ্রোহী কিশোরকেও হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি সরকার৷ আরব বসন্তের সময়ে তার বয়স ছিলো ১০ বছর। বিরোধী মতামত দমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর আমেরিকা উত্তর কোরিয়া বা চীনের বিষয়ে যতটুকু সোচ্চার তার ৫% ও যদি সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে করতো, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

এগুলোতো ব্যক্তি দমন। পুরো একটা জাতির ঘাড়ে অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে বসে আছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই গরিব ভুক্তভোগীর নাম ইয়েমেন। ইয়েমেনে আরব বসন্ত চলাকালীন সময়ে সরকার পদত্যাগের পর গৃহযুদ্ধের উপক্রম হয়। দেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। রাজধানী সানা আর উত্তর ইয়েমেনে শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর বন্দরনগরী এডেন, দক্ষিন ও পূর্ব ইয়েমেন সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ। গৃহযুদ্ধের আগুনে আলুপোড়া দিতে আসে সৌদি আরব। সুন্নি বিদ্রোহীদের অর্থ আর অস্ত্র সাহায্য দেয় তারা। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে হাজির হয় ইরান। তারাও শিয়াদের অস্ত্র আর অর্থ সাহায্য দেয়। প্রক্সি-ওয়ার খেলা চলার প্রাক্কালে সৌদি সরাসরি আক্রমণ করে বসে ইয়েমেন।

যুদ্ধ করার কিছু আদবকায়দা আছে। বেসামরিক জনগণের উপর আক্রমণ করা যাবে না। স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টারে বোমা মারা যাবে না। বিয়ের অনুষ্ঠান, মৃতের সৎকার অনুষ্ঠানে আক্রমণ করা যাবে না। বর্বর রাষ্ট্র সৌদি আরব এই প্রত্যেকটাই অমান্য করেছে। তারা স্কুলে, হাসপাতালে, মসজিদে বোমা ফেলেছে। এমনকি জানাজার নামাজেও বোমা ফেলেছে। ঐদিন ইয়েমেনের এক এতিম বাচ্চা সাক্ষাতকারে বলছে- 'আমরা এখন ৬ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা আর জানাজা।' এইরকম হাজার হাজার ইয়েমেনি বাচ্চাকে এতিম করছে সৌদি আরব সরকার। ইয়েমেনে আজকে যে দুর্ভিক্ষ, লোকেরা ঘাস আর পাতা খেয়ে রোজা রাখলো আর ইফতার করলো এর পুরো দায়ভার সৌদি আরবের৷

ইরানের সাথে সৌদির পুরান ঝামেলা। ইরানের বিপ্লবী সরকারকে সৌদি আরব সহ্যই করতে পারেনা। কিছুদিন আগে ইসরায়েলের এক মন্ত্রীকে সৌদির আরেক মন্ত্রী গিয়া বুঝায়া আসছে, ইসরায়েল ইরান আক্রমণ করলে সৌদি আরব ইসরায়েলের পাশে থাকবে। অন্য মুসলিম দেশের কেউ ইসরায়েলের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ইহুদি হয়ে যায়, আর সৌদি আরবের মন্ত্রীরা ইসরায়েল ঘুইরা আসলেও তারা মুসলিম জাতির অভিভাবক হিসাবে বহাল থাকে। তাদের মুসলমানিত্ব কি বাকিদের চেয়ে বেশি?

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের অভ্যুদয় না হওয়ার পেছনে আমেরিকা-ইসরায়েলের যতটুকু দায়, সৌদি আরবেরও ততটুকু দায়। সৌদি সরকার চায়না ফিলিস্তিন স্বাধীন দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক। এই ঝামেলা তারা জিইয়ে রাখতে চায়। ঝামেলা জিইয়ে রেখে যতটুকু লাভ আর ব্যবসা হবে, স্বাধীন দেশ হয়ে গেলে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে সৌদির। ফিলিস্তিন ইস্যুতে টুকটাক মাতব্বরি করে সৌদি আরব, সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের আরেক বিষফোড়া আইএসের অর্থ ও অস্ত্রের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা সৌদি আরব। আইএস যে মতাদর্শ পোষন করে, সৌদি আরব সেই মতাদর্শের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। সারা পৃথিবীতে ইসলামের উগ্রবাদী রূপ- সালাফিবাদ ছড়ায়া দেয়ার পেছনে সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ মদদ বিদ্যমান। সৌদি আরব এতো টাকা কোথা থেকে পায়?

সৌদি আরবের টাকার উৎস- তেলবিক্রি আর হজ্জ-ওমরাহ থেকে আয়। তেলবিক্রির টাকায় তারা উগ্রবাদ প্রচার করে, নিরিহ জাতিগুলোর উপর যুদ্ধ চাপায়া দেয়। আর হজ্জ-ওমরাহের টাকায় করে ভোগবিলাস। কেমন ভোগবিলাস? বিল ক্লিনটন তার আত্মজীবনীতে বলেছেন, তিনি একবার সৌদি আরবে এক যুবরাজের সাথে বসে মদ্যপান করছিলেন। একসময় যুবরাজের এক সহকারী এসে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর যুবরাজ আসলে ক্লিনটন জিজ্ঞাসা করলেন- যুবরাজ কি কোনো কাজে গিয়েছিলেন কিনা? যুবরাজ জবাব দেয়, তেমন কিছুনা, এক লোক মদ পান করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে, তাকে দোররা মারার শাস্তি দিয়ে আসলাম। ক্লিনটন এই ঘটনায় অবাক হন। যুবরাজ নিজেই বিচারকার্য এর আগে এবং পরে মদ খেলেন। কিন্তু শাস্তি তো কেবল সাধারণ মুসলমানদের জন্য।

পরকালে আল্লাহ বিচার করার সময় সৌদি যুবরাজদের ডেকে বলবেন, রাজপরিবারের সদস্যদের সব গুনাহ মাফ। কেবল সাধারন সৌদিয়ানরা লাইনে দাঁড়াও। মদ, নারী, দামী গাড়ি আর প্রাসাদ এই হলো সৌদি যুবরাজদের ভোগবিলাস। সৌদি যুবরাজের সংখ্যা কম হইলেও হইত। সৌদি আরবে যুবরাজের সংখ্যা কমপক্ষে ৬০০। একদিকে তারা নিজেদের দাবী করে মক্কা-মদিনা পবিত্র দুই নগরের রক্ষক অপরদিকে আচার-আচরন দেখলে মনে হয় তারা দুনিয়ায় শাদ্দাদের বেহেশতে আছে।

সৌদি আরবকে মদদ দেয় আমেরিকা, আমেরিকার স্বার্থও সৌদি দেইখা রাখে। ডলারের দাম একবার কমতির দিকে ছিলো। সবদেশ নিজের মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে, স্বর্ণ মজুদ রাখে৷ ডলার পতনের সেই সময় সৌদি ডলার মজুদ করে, ডলারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করে। মুসলমানরা সৌদি আরব নিয়া কথাই বলতে চাননা।

সৌদি আরব নিয়া কথা বলতে চাননা কারন তারা কাবা শরীফ দেইখা রাখেন। আসলে সৌদিরা কাবা শরীফ দেইখা রাখে না, কাবা থেকে আয়ের টাকা দিয়া মৌজমাস্তি করে। আর আপনিতো কাবা শরীফ দেইখা রাখার বিরোধীতা করতেছেন না। বিরোধীতা করতেছেন তাদের অন্যায় কাজের। অন্যায় কাজ যে কেউ করতে পারে। আপনি সেটা বিরোধিতা করার অধিকার রাখেন।

আপনার হজ্জের টাকায় সৌদিরা অস্ত্র কিনা সেটা দিয়া ইয়েমেনে যুদ্ধ বাধায়া, ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষ লাগায়া, ইয়েমেনি বাচ্চাদের এতিম কইরা, কেমন ইসলামের উদাহরন তৈরি করতেছে এই প্রশ্ন মুসলমান হিসাবে আপনি করতেই পারেন। বরং অন্যায়ের সাথে আপোষ করা, অন্যায়ের সমালোচনা না করাটাই দুর্বল ঈমানের লক্ষন। এই কারনেই হজরত আলী বলেন- 'যারা অনাচার করে, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করাটাও অনাচার।'

বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষ মুক্তি পাক।
রাজতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র ধ্বংস হোক।

16 May 2019

দৈনন্দিন আলাপ ১

বাংলাদেশের একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী এখন সহজে বেহেস্তে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এর অধিকাংশই নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত। সমাজের এই অংশই সবচেয়ে ধার্মিক-ধর্মভীরু বা ক্ষেত্রবিশেষে ধর্মান্ধ। নিম্ন বা নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ধার্মিক হওয়ার পেছনের মূল কারণ- অপ্রাপ্তি। কারো সংসারে হয়তো ৪ টা বাচ্চা। জীবনের টানাপড়েনে ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খেতে হয়। হয়তো বাচ্চাদের মাসে- ২ মাসে একবার তুলনামূলক কিছুটা ভালো খাবার দিতে পারে বা তাও পারেনা। তখন তারা হিসাব করে বের করে এই জীবনে ত পেলাম না, পরের জীবনে বেহেস্তে গেলে মাংস খাবো, দুধের নদীতে গোসল করবো, যা চাইবো তাই পাবো, টাকার জন্য কিছুই আটকাবেনা। গরীবের সম্পদ কম, তাই তার হিসাব কম, তাই তার বেহেস্তে যাওয়াও সোজা। 

ধার্মিক হওয়ার জন্য কিছু খরচ করা লাগে। কিছু পড়াশোনা করা লাগে। নিম্নবিত্ত ধার্মিকরা হয়তো জীবনে একবারও বাংলা কোরান-হাদীন পড়েন নাই। কিন্তু বেসিক কিছু বিষয় জানেন, পারিবারিক ঐতিহ্য আর স্থানীয় ইমাম থেকে। এর পর ভরসা করেন ওয়াজে। কিন্তু ওয়াজে যখন ভুলভাল বলা হয়, নতুন কিছু না শিখিয়ে কেবল দোষারোপ করা হয়, পুরো পরিবার বেহেস্তে যাওয়ার উপায় হিসেবে সন্তানকে মাদ্রাসায় দেওয়ার কথা বলা হয়, তখন ডান-বাম চিন্তা করার উপায় থাকেনা তাদের। 

হয়ত সন্তানকে এমন মাদ্রাসায় দেন যেখানে খরচ খুব কম, অথবা ১ বেলা খাবার দানের টাকা থেকে আসে, তখন পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর চাপ কিছুটা কমে আসে। কিন্তু সেই সন্তানটিই যখন ধর্ষন বা বলাৎকারের শিকার হয়ে গাছের ডালে ঝুলে থাকে বা মাদ্রাসার জানালায় ঝুলে থাকে বা বস্তাবন্দী বেওয়ারিশ লাশ হয়ে মর্গে যায়, পিতামাতার তখন কি করার থাকে। ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়গুলো কিছুটা সাহসের সাথে উঠে আসে। কিন্তু কয়টা আসে? কয়টার বিচার হয়? বিলম্বিত বিচার, বিচারহীনতার নামান্তর। 

বেহেস্তে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর জাতি! অথচ এর আগে এরা যে জায়গাটায় থাকতেছে সেটাকে দোযখ বানায়া ফেলতেছে। প্রায় কেউই নিজের ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে না। ফেলবে কোত্থেকে নির্দিষ্ট জায়গাই ত নাই। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা দেয়া স্থানীয় প্রশাসনের কাজ। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট জায়গা দেয়া আর সেখান থেকে ময়লা নিয়মিত নিষ্কাশন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসন চূড়ান্তরকম ব্যর্থ। স্থানীয় প্রশাসন জানেইনা ময়লাগুলো দিয়ে কি কি করা যায়? সাভার পৌরসভা উপায়ন্তর না দেখে একটা যুগান্তকারী আইডিয়া গ্রহণ করে। আইডিয়াটা বেশ মজার। সেটা হলো সাভার থেকে গাবতলী হাইওয়ের দুইপাশে ময়লা স্তুপ করে রাখা। 

তাতে বেশ কিছু উপকার হচ্ছে যেমন- দুইপাশের খালি জমি ভরাট হচ্ছে। মাটিতে পলিথিনের স্তুপ জমে মাটিদূষণ চমৎকারভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। বৃষ্টিতে বা গরমে ময়লাগুলো পচে গিয়ে মানুষের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই দুর্গন্ধ গায়ে মেখে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করছে। 

মজা যে কেবল সাভার পৌরসভা করেছে তা না, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররাও করেছে। তারা রাস্তার মধ্যে কিছু ডিব্বা দিছে ময়লা ফেলার জন্য। ডিব্বা দিয়েই খালাশ। ডিব্বা দিতে বলছেন, দিছি। ডিব্বা পরিষ্কার ত করতে বলেন নাই। সেই ডিব্বা যে পরিষ্কার করা লাগে, সেই ডিব্বা থেকে ময়লা প্রত্যেকদিন সরায়া নেয়া লাগে, ডিব্বাটা আবার ব্যবহারের উপযোগী কইরা রাখা লাগে সেইটা এই প্যারিসের মেয়ররা জানেননা। ফলাফল সবাই হাতে হাতে তের পাইতেছে। সবাই দেশ ছাইড়া ভাগার জন্য অস্থির হইয়া আছে। কেউ সুযোগ পাইতেছে, কেউ সুযোগের অভাবে যাইতে পারতেছেনা। 

অথচ এই লোকেরাই দেশের বাইরে গিয়ে জায়গা মতো ময়লা ফেলবে। আর আক্ষেপ করবে ইশ! কেন এইরকম একটা জাহান্নামে জন্মাইছিলাম। জন্মায়া যখন ফেলছেনই কিছু দায়িত্ব পালন করেন। এই বিষয়ে মহানবীর হাদীসও আছে। সেই ব্যাক্তি উত্তম যার হাত ও মুখ থেকে তার প্রতিবেশি নিরাপদ। অথচ দেখেন আমাদের ব্যক্তিগত ময়লা দিয়া আমরা প্রতিবেশিদের কষ্ট দেই, তার প্রতিবেশিদের কষ্ট দেই। যার সাথে জীবনে একবার কথাও হইবোনা তারেও কষ্ট দেই। আমরা নিজেরা জায়গামত ময়লা ফেলবো এবং স্থানীয় প্রশাসনকে চাপ দিবো ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা দেয়ার জন্য, ময়লা যথাসময়ে যথাযথ জায়গায় সরায়া নেয়ার জন্য। 

মানুষের জন্য দেশ, না দেশের জন্য মানুষ? 
মানুষের জন্য সরকার, না সরকারের জন্য মানুষ? 
মানুষের জন্য ধর্ম, না ধর্মের জন্য মানুষ? 

আরে, সবার আগে ত মানুষ। মানুষ আছে এই বইলাইতো এতো আয়োজন। ধর্ম, সরকার, দেশ, প্রশাসন। মানুষ যদি ভালো না থাকে এই জিনিসগুলা দিয়া আমরা কি ফালাবো? 

আচ্ছা, আমরা আবার ধর্ষনে ফিরা যাই। ধর্ষন নিয়া দুইটা কথা। ধর্ষন যে কেউ যে কোনো সময় যে কোনো বয়সে করতে পারে। একপাক্ষিক কেবল হুজুরদের দোষ দিয়া লাভ নাই। তবে এইটা সত্য হুজুরদের মধ্যে ধর্ষন, শিশুকামীতা এবং সমকামিতার প্রকোপ বেশি। এর কারনে পরিষ্কার। হুজুররা একটা দীর্ঘসময় যৌন-অবদমনের মধ্যে বসবাস করে। ফলে তারা হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পরে। শুধু হুজুররা না। যেকোনো ধর্মের যাজক-পুরোহিতদের মধ্যে এই প্রবনতা লক্ষণীয়। একসময় গীর্জা ছিলো শিশুকামিতার আখড়া, এখন মাদ্রাসাগুলা। আরেকটা বড় কারণ পরিবার থেকে দূরে থাকা। পরিবারের ছায়ায় থাকলে, স্ত্রী-সন্তানাদি পাশে থাকলে ধর্ষন-বলাৎকার কিছুটা কমবে হয়ত। কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হবে না। ধর্ষন-বলাৎকার, শিশুকামিতা ইত্যাদি মানবপ্রজাতির মৌলিক খারাপ গুণ (মানবপ্রজাতির মৌলিক খারাপ গুণ নিয়া আলাপ আরেকদিন)। পুরোপুরি বন্ধ হবে না, কিন্তু কমায়া আনা সম্ভব। 

ধর্ষন নিয়া আরেকটা কথা হচ্ছে, ধর্ষনের বিচার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা লাগবে কেন? কেন বলা লাগবে ঐ ধর্ষকরে গ্রেফতার করো। পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজটা কি? ৫৭ ধারায় গ্রেফতারের সময় যতো দ্রুত কাজ হয়, সেটাতো প্রথম হওয়ার কথা খুন-ধর্ষন-খাদ্যে ভেজাল এইসব ক্ষেত্রে। 

না কান্না করলে মা বাচ্চারে দুধ দেয় না। আর আমাদের ধারনা আমাদের অধিকার সরকার ঘরে আইসা দিয়া যাবে। যেটা দরকার সেটা চাইয়া নিতে হবে। যতবার ধর্ষন হবে, ততবার লোকেরা রাস্তায় নামবে, বিচার চাইবে। বিচারকাজ যেন দ্রুত হয় সেটা চাইবে, বিচারে দোষী যেন অর্থ বা ক্ষমতার জোরে নির্দোষ হইতে না পারে সেটার জন্য চাপ দিবে। লোকেরা খাদ্যে ভেজাল নিয়ে কথা বলবে। আল্লাহর দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় দুনিয়াবি অপরাধ মানুষের খাদ্যে বিষ দেয়া। গুটিকয়েক সুবিধাবাদী, মুনাফাখোর, বেঈমানের জন্য কষ্ট পাইতেছে পুরা জাতি। অপরাধ হইলে জাতি প্রতিবাদ করবে। অন্যায় হইলে, দুর্নীতি হইলেও করবে। আসলে দুর্নীতিরে আরো ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার। কেবল দুর্নীতি এই শব্দটা দিয়া দুর্নীতির যে ব্যপক চিত্র সেটা দৃষ্টিগোচর হয়না। 

দুর্নীতি মানে নীতিহীনতা। আমি সরকারি ডাক্তার। জনগণের টাকায় সরকারি মেডিকেল কলেজে পইড়া, বিসিএস দিয়া সরকারি ডাক্তার হইছি। সরকার আমারে সেবা দিতে পাঠাইতে চায় কুড়িগ্রামের রৌমারি। কিন্তু আমি সেখানে না গিয়া তদবির করতেছি যেন ঢাকায় দেয়, ঢাকায় দেয়। ঢাকায় টাকা উড়ে। প্রাইভেট ক্লিনিক, ডিসপেনসারি, নিজের চেম্বার। ঢাকায় থাকার জন্য কিছু ঘুষও দিলাম। এই তদবির, এই ঘুষ এগুলা দুর্নীতি। এইযে ধানের ন্যায্যমূল্য পাইতেছেনা কৃষক। অথচ বাজারে চালের দাম কমে নাই। মাঝখানের টাকাটা যাইতেছে কই? সবাই জানে। হাতে গোনা যাবে এই পরিমান মজুতদার-মধ্যসত্ত্বভোগীর পকেটে লাভের টাকাটা যাচ্ছে। এই দেখভাল যার করার কথা কিন্তু করতেছেনা, এইটাই দুর্নীতি। কিছু সামান্য নিজের লাভের কারণে বৃহৎ জাতীয় স্বার্থের দিকে না তাকানোই দুর্নীতি। 

দুর্নীতি করতেছে হয়ত খুব কম লোক, কিন্তু ভুক্তভোগী পুরো জাতি। কারণ খারাপ লোকের খারাপ কাজের জন্য সমাজ নষ্ট হয়না, হয় ভালো মানুষদের চুপ থাকার কারণে। জাতীয় স্বার্থে অনুগ্রহ করে চুপ না থেকে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেন। বিশ্বাস করেন, আপনারাই সংখ্যাগুরু।