16 October 2019

দৈনন্দিন আলাপ ২৪

১৯৪৭ এর আগে আমাদের শত্রু কারা এটা চিহ্নিত করতে আমাদের সমস্যা হতো না। আমরা সাদা চামড়ার বৃটিশদের খুব সহজেই আলাদা করতে পারতাম। বৃটিশরা আমাদের লুটপাট করে নিজেদের দেশকে শিল্পোন্নত করেছে, আর আমাদের বলেছে ব্লাডি ব্ল্যাক।  আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের শত্রুদের তাড়িয়েছি। 

১৯৪৭-৭১ আমরা শত্রু চিহ্নিত করতাম মুখের ভাষা দিয়ে। ৫২ তে ভাষার লড়াই থেকে শুরু করে ৭১ এ মুক্তিসংগ্রাম পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মসম্মান বিসর্জন দেইনি। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশও বৃটিশদের উত্তরাধিকার হিসাবে আমাদের উপর চালিয়েছে লুটপাট। আমাদের টাকা তারা পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গেছে। আমরা থেকেছি ব্লাডি বাঙ্গাল হয়ে। 

১৯৭১ এ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, যে দেশের নাম বাংলাদেশ, যে দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু আমাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। আমাদের দেশের ক্ষমতায় এখন আমাদের নিজেদের দেশের লোক। অথচ লুটপাট কমেনি। পরাধীন থাকলে আমরা বৃটিশ বা পাকিস্তানিদের দোষ দিতে পারতাম। এখন এই স্বাধীন দেশে আমাদের শত্রু কারা? 

বাংলাদেশের শত্রু চিহ্নিত করা এখন খুব কঠিন। তাদের গায়ের রঙ আমাদের মতো, মুখের ভাষা আমাদের মতো, কেবল কয়েকটি আচরন বাদ দিয়ে। কিভাবে সাধারণ জনগণ থেকে জনগণের শত্রু আলাদা করবেন? 

এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই প্রায় ৫০ বছর পর, বাংলাদেশের শত্রু তারাই যারা বিভিন্নরকম দুর্নীতির সাথে যুক্ত। আগে অন্যরা লুটপাট করে দেশের সম্পদ বাইরে পাচার করেছে। এখন দুর্নীতিবাজরা বাংলাদেশের সম্পদ বাইরে পাচার করছে। এই দুর্নীতিবাজদের কাছে বাংলাদেশের জনগণ, ব্লাডি গরিব... যাদের রক্ত পানি করা টাকা তারা বিদেশ পাচার করছে, তাদের কোনো দাম নাই। তাদের কাছে তার বৌয়ের দামী হীরার আংটি জরুরি, ছেলে-মেয়েদের জন্য বিদেশের ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট জরুরি। 

বাংলাদেশের শত্রু এখন এই দুর্নীতিবাজরাই। এদের দেশ থেকে তাড়াতে হবে। অবশ্য দেশ থেকে কি তাড়াবেন? এরাতো বাইরে সব টাকা নিয়েই গেছে, ফ্যামিলির সবাইকে বাইরে পাঠিয়েও দিয়েছে, এখন শুধু নিজের যাওয়া বাকি। এদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ধরে এনে বিচার করতে হবে। 

দুর্নীতিবাজ কারা?

১. সরকারি দায়িত্ব যারা অবহেলা করে, সরকারি দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে যারা অবৈধ অর্থ কামাই করে, সরকারি কাজ করে দেয়ার জন্য যারা অতিরিক্ত অর্থ- ঘুষ বা উপহার দাবী করে এবং গ্রহণ করে। যে কোনো সরকারি পদ এর আওতায় পরবে- মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের পিয়ন পর্যন্ত। 

২. সে সমস্ত ব্যবসায়ী যারা পণ্য মজুত করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়ায়। যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, অবৈধ অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করে। 

৩. সে সমস্ত রাজনীতিবিদ যারা রাজনীতিকে টাকা কামাইয়ের পথ হিসেবে দেখে। বিদেশে অর্থ পাচার করে এবং বিনিয়োগ করে। 

তবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য দুর্নীতি করা সহজ। একটা বালিশ ১ লাখ টাকা দিয়ে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত সহকারী কিনলে তাকে চড়ায়া কানাপট্টি লাল করে ফেলা হতো। কিন্তু সরকারি কাজে জবাবদিহিতা নাই, বিচার নাই, দেখার কেউ নাই। শাস্তি কি হবে? ওএসডি, অব্যহতি... কিন্তু সরকারি টাকা মানে জনগণের টাকা দুর্নীতি করার জন্য কেনো তাদের দ্রুত বিচারের সম্মুখীন করা হবে না? 

বাংলাদেশের শত্রু এখন এই দুর্নীতিবাজরাই। এদের না ঠেকানো গেলে দেশ আগাবে না। 

No comments:

Post a Comment