Showing posts with label জয় জনতা. Show all posts
Showing posts with label জয় জনতা. Show all posts

15 June 2020

দৈনন্দিন আলাপ ৩৭


সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম সাহেবের রুহের মাগফেরাত কামনা করাকে কেন্দ্র করে জাতি আজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। যেকোনো ইস্যুতে আসলে এমনটা হয়। কিন্তু বিভিন্ন ভাগে ভাগ হওয়ার আগে কয়েকটা বিষয় ভেবে নিতে পারলে ভালো হয়।

একটা ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাত জাতিকে উপহার দেয়ার পেছনে নাসিম সাহেবের অবদান ছিলো। তবে সে একাই এর পেছনে দায়ী না। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের প্রায় সকল সচিব ও কর্মকর্তারা এর জন্য দায়ী। নাসিম সাহেবের আগের ও পরের সকল স্বাস্থ্যমন্ত্রী এর জন্য দায়ী। দুর্নীতিবাজ সচিবদের নিয়োগ ও পদোন্নতি যারা দিয়েছে তারা দায়ী।

কে কার চেয়ে বেশি দায়ী এটা ইতিহাস ঠিক করবে। কিন্তু সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নাসিম সাহেব ইতিহাসের দায় এড়াতে পারবেন না বলেই মনে হচ্ছে। মারা যাওয়ার পর নাসিম সাহেবকে নিয়ে কথা বললে আপনার রাগ-ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে ঠিক, কাজের কাজ কিছু হবে না।

তাই যারা মারা যাওয়ার পর আপনি এভাবে রাগ-ক্ষোভ দেখাবেন, তারা জীবিত থাকতে থাকতেই কথা বলুন, যেনো তাদের কান পর্যন্ত কথা পৌঁছায়। যেনো জীবিত থাকতে থাকতেই তারা তাদের ধ্বংস করে ফেলা সিস্টেমের কারণে আফসোস করে।

এসময় আপনি চুপ করে থাকলে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা মনে করবে, এই জাতির সাথে দুর্নীতি করা ঠিকই আছে। যে জাতি এরকম মুহুর্তে চুপ করে থাকে দুর্নীতিতো তাদের সাথেই হবে। দুই-একজনকে জেলে নিয়ে ভয় দেখিয়ে তারা প্রমান করার চেষ্টা করবে এ জাতি ওর্থলেস- রেস্পেক্টলেস।

জাতি ওর্থলেস না। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা যেখানে গুচ্ছে থাকে, আপনি সেখানে একলা। আপনার এই একলা একলা চর্চা তাদের শক্তি যোগায়। তারা জানে আপনি কতোদূর কি করতে পারবেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যৌথভাবে আওয়াজ তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।

এরমধ্যে একটা ধর্ষণের খবর দেখলাম। একটা নাইনে পড়া বাচ্চা মেয়ে, হীরামনি। বাবা ক্যান্সারের রোগী, মা বাবার সাথে ঢাকায় হাসপাতালে, মেয়ে বাড়িতে একলা। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের এতো অবক্ষয় ঘটেছে যে আমাদের মেয়েরা রাস্তায় নিরাপদ না, বাসে-ট্রেনে নিরাপদ না, একলা কোথায় যেতে আসতে নিরাপদ না, বাসার ভেতরেও নিরাপদ না।

বেশ কয়েকজন অপরাধীদের ক্রসফায়ার চাচ্ছেন। ক্রসফায়ার তারা চাচ্ছেন রাগ-ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে। দেশে আইনের শাসনের অভাব, অপরাধীদের অর্থ ও ক্ষমতার বলে শাস্তি থেকে বের হয়ে আসার প্রবণতা এবং একের পর এক ধর্ষণ আমাদের এমন দাবী করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ক্রসফায়ার কোনো সমাধান না।

কারণ আপনারা জানেন, ক্রসফায়ারকে রাজনৈতিক বিবেচনায় কতোটা ব্যবহার করা হয়। দেশে যে আইনের শাসন নাই, ক্রসফায়ার তার একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ। দাবী হওয়া উচিত- ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর খুনের আপরাধীদের দ্রুত বিচার করতে হবে। কেউ যদি অর্থ ও ক্ষমতার মাধ্যমে এটা সেটেল করতে আসে, তাকেও বিচারের মুখোমুখী করতে হবে।

কিন্তু বিচার করতে আমাদের এতো দেরী হয়ে যায় যে এর মধ্যে আর কয়টা ধর্ষন হবে কেউ জানে না। আর সেই বিচারে অপরাধীদের শাস্তি হবে না, তারা গোপনে বের হয়ে যাবে, বা ঘুষ দিয়ে বা রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে, বিচারকে প্রভাবিত করবে। আগের উদাহরণগুলো আমাদের এই ভয় দিয়েছে। সাগর-রুনি, তনুর অপরাধীদের আজও চিহ্নিত করা যায় নি। বিশ্বজিৎকে কেউ খুন করেনি। কি একটা কথা আছে না, বিচার দেরী করে হলে আর বিচার থাকেনা, বেগুনভর্তা হয়ে যায়।

এসব অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে আওয়াজ তুলতে হবে। অধিকারের আওয়াজ তুলতে হবে যেনো আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারি। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে আমরা সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ নির্মান করতে পারবো।

আগামীর বাংলাদেশ- জনতার বাংলাদেশ।
আগামীর বাংলাদেশ- দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত, আধুনিক ও কল্যানকামী বাংলাদেশ।

জয় জনতা।

13 June 2020

দৈনন্দিন আলাপ ৩৬

ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি আমরা।
আমাদের একপাশে স্বৈরাচারী সরকার ও তার লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাট, অরাজকতা ও অব্যবস্থাপনা, জীবনের সর্বস্তরে শোষণ এবং ধনী-গরিবের বৈষম্য।
অপরপাশে দেশকে বদলানোর অফুরন্ত সুযোগ, একটি দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত রাষ্ট্র, সমাজ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ, আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাওয়া স্বনির্ভর-স্বাবলম্বী বাংলাদেশের স্বপ্ন।
আমাদের আসলে হারানোর কিছু নাই। এর মধ্যে যা হবে সব অর্জন।
আমদের সংগ্রাম দুইটা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে।
একদিকে সরকারের স্বেচ্ছাচার-স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও লুটপাট, শোষণ ও বৈষম্য। অপর ফ্রন্টে জনতার মধ্যে প্রোথিত দীর্ঘদিনের অশিক্ষা-কুসংস্কার, কলোনিয়াল মানসিকতা, বৈষম্যে অভ্যস্ততা ইত্যাদি।
সংগ্রামটা সমানভাবে চালাতে হবে দুই ফ্রন্টের বিরুদ্ধে। আমরা যে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সরকারের স্বৈরাচার ও জনতার মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারলে সে স্বপ্ন কখনো সফল হবে না।
প্রশ্ন হলো কোনটা আগে দরকার, কোনটা পরে দরকার! কোন সংগ্রামই অগুরুত্বপূর্ণ নয়। দুইটাই সমানভাবে চালাতে হবে। সরকারকে তার দুর্নীতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে জনতা। আর রাষ্ট্র জনতার জন্য জনতাবাদী পলিসি বাস্তবায়ন করবে। জনতার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও কলোনিয়াল মানসিকতা দূর করা গেলেই, জনতা আগামীর বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হবে। তার আগে জনতার প্রস্তুত হতে হবে সরকারের অসীম ক্ষমতা আর তার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।
জনতার জন্য রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের জন্য জনতা নয়।
যে সরকার জনতার আশা-আকাঙ্খা পূরন করতে ব্যর্থ, সে সরকারের দরকার নাই। সে সরকারকে জনতা ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাড়া করাবে। আস্তাকূড়ে নিক্ষেপ করবে।
এই সংগ্রামে জয় জনতার। আগামীর বাংলাদেশ- জনতার বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত, স্বনির্ভর-আধুনিক বাংলাদেশ। সমস্ত প্রতিকূলতাকে প্রবল ঝড়ের মতো ঝেরে ফেলে বাংলাদেশের জনতা নিজেদের জন্য এমন রাষ্ট্র নির্মান করবে।
কলোনিয়াল মানসিকতা আমাদের এতো দূরে নিয়ে গেছে যে, প্রতি পরিবার থেকে একজনের ভিকটিম না হওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকবো। আমাদের বাবা চিকিৎসা না পেয়ে ৮-১০ হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে রাস্তায় মরবে। আমাদের বোন ধর্ষণের পর পাশের জঙ্গলে মৃত পরে থাকবে, আর তার খুনীরা ক্ষমতা দেখিয়ে ঘুরে বেড়াবে, মামলা না করার জন্য আপনাকেই চাপ দিবে, থানা-পুলিশকে টাকা দিয়ে কিনে নিবে। আপনার ভাই কৃষক বা শ্রমিক, ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে পাউরুটি চুরি করতে গিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের পায়ের নিচে পরবে।
যতোদিন আপনি অত্যাচারিতের অনুভূতি অনুভব করতে না পারবেন, ততোদিন আওয়াজ করার দরকার নাই। কিন্তু আপনি যদি দেখে থাকেন, যা চোখের দেখা উচিত; আপনি যদি শুনে থাকেন, যা চোখের শোনা উচিত; আপনার হৃদয় যদি অনুভব করে থাকে, যা হৃদয়ের অনুভব করা উচিত, তাহলে চুপ করে থাকবেন না।
হৃদয়ের আওয়াজ শুনতে শুনতে যদি আপনি বুঝতে পারেন, আপনি একটি অরাজক রাষ্ট্রে আছেন; যদি আপনি বুঝতে পারেন এমন এক দেশে আপনি আছেন, যে দেশ আপনি আশা করেন না, তাহলে আওয়াজ তুলুন। যে যার জায়গা থেকে আওয়াজ তুলুন। দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন।
আমাদের স্বামর্থ্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের পূর্বপুরুষ একটা প্রশিক্ষিত সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে পরনের লুংগি গিট দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো বলেই আজ আমরা স্বাধীন। আপনার আওয়াজহীনতা স্বৈরাচারকে শক্তি জোগালে পরের প্রজন্মকে কি জবাব দিবেন, সেটা এখনি প্রস্তুত করে রাখুন।
কারণ আগামীর বাংলাদেশ- জনতার বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত, স্বনির্ভর-আধুনিক বাংলাদেশ।
জয় জনতা।

16 October 2019

দৈনন্দিন আলাপ ২৪

১৯৪৭ এর আগে আমাদের শত্রু কারা এটা চিহ্নিত করতে আমাদের সমস্যা হতো না। আমরা সাদা চামড়ার বৃটিশদের খুব সহজেই আলাদা করতে পারতাম। বৃটিশরা আমাদের লুটপাট করে নিজেদের দেশকে শিল্পোন্নত করেছে, আর আমাদের বলেছে ব্লাডি ব্ল্যাক।  আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের শত্রুদের তাড়িয়েছি। 

১৯৪৭-৭১ আমরা শত্রু চিহ্নিত করতাম মুখের ভাষা দিয়ে। ৫২ তে ভাষার লড়াই থেকে শুরু করে ৭১ এ মুক্তিসংগ্রাম পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মসম্মান বিসর্জন দেইনি। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশও বৃটিশদের উত্তরাধিকার হিসাবে আমাদের উপর চালিয়েছে লুটপাট। আমাদের টাকা তারা পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গেছে। আমরা থেকেছি ব্লাডি বাঙ্গাল হয়ে। 

১৯৭১ এ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, যে দেশের নাম বাংলাদেশ, যে দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু আমাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। আমাদের দেশের ক্ষমতায় এখন আমাদের নিজেদের দেশের লোক। অথচ লুটপাট কমেনি। পরাধীন থাকলে আমরা বৃটিশ বা পাকিস্তানিদের দোষ দিতে পারতাম। এখন এই স্বাধীন দেশে আমাদের শত্রু কারা? 

বাংলাদেশের শত্রু চিহ্নিত করা এখন খুব কঠিন। তাদের গায়ের রঙ আমাদের মতো, মুখের ভাষা আমাদের মতো, কেবল কয়েকটি আচরন বাদ দিয়ে। কিভাবে সাধারণ জনগণ থেকে জনগণের শত্রু আলাদা করবেন? 

এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই প্রায় ৫০ বছর পর, বাংলাদেশের শত্রু তারাই যারা বিভিন্নরকম দুর্নীতির সাথে যুক্ত। আগে অন্যরা লুটপাট করে দেশের সম্পদ বাইরে পাচার করেছে। এখন দুর্নীতিবাজরা বাংলাদেশের সম্পদ বাইরে পাচার করছে। এই দুর্নীতিবাজদের কাছে বাংলাদেশের জনগণ, ব্লাডি গরিব... যাদের রক্ত পানি করা টাকা তারা বিদেশ পাচার করছে, তাদের কোনো দাম নাই। তাদের কাছে তার বৌয়ের দামী হীরার আংটি জরুরি, ছেলে-মেয়েদের জন্য বিদেশের ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট জরুরি। 

বাংলাদেশের শত্রু এখন এই দুর্নীতিবাজরাই। এদের দেশ থেকে তাড়াতে হবে। অবশ্য দেশ থেকে কি তাড়াবেন? এরাতো বাইরে সব টাকা নিয়েই গেছে, ফ্যামিলির সবাইকে বাইরে পাঠিয়েও দিয়েছে, এখন শুধু নিজের যাওয়া বাকি। এদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ধরে এনে বিচার করতে হবে। 

দুর্নীতিবাজ কারা?

১. সরকারি দায়িত্ব যারা অবহেলা করে, সরকারি দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে যারা অবৈধ অর্থ কামাই করে, সরকারি কাজ করে দেয়ার জন্য যারা অতিরিক্ত অর্থ- ঘুষ বা উপহার দাবী করে এবং গ্রহণ করে। যে কোনো সরকারি পদ এর আওতায় পরবে- মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের পিয়ন পর্যন্ত। 

২. সে সমস্ত ব্যবসায়ী যারা পণ্য মজুত করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়ায়। যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, অবৈধ অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করে। 

৩. সে সমস্ত রাজনীতিবিদ যারা রাজনীতিকে টাকা কামাইয়ের পথ হিসেবে দেখে। বিদেশে অর্থ পাচার করে এবং বিনিয়োগ করে। 

তবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য দুর্নীতি করা সহজ। একটা বালিশ ১ লাখ টাকা দিয়ে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত সহকারী কিনলে তাকে চড়ায়া কানাপট্টি লাল করে ফেলা হতো। কিন্তু সরকারি কাজে জবাবদিহিতা নাই, বিচার নাই, দেখার কেউ নাই। শাস্তি কি হবে? ওএসডি, অব্যহতি... কিন্তু সরকারি টাকা মানে জনগণের টাকা দুর্নীতি করার জন্য কেনো তাদের দ্রুত বিচারের সম্মুখীন করা হবে না? 

বাংলাদেশের শত্রু এখন এই দুর্নীতিবাজরাই। এদের না ঠেকানো গেলে দেশ আগাবে না। 

13 October 2019

দৈনন্দিন আলাপ ২৩

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলাম। তো একবার সায়েদুর রহমান স্যার আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন। স্যার আমাদের রাষ্ট্র বিষয়ক বিভিন্ন বাদ-বিবাদ পড়াচ্ছিলেন ক্লাসে; গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি। সম্ভবত তখন ২০১১ সাল, আমরা স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, স্যার বাংলাদেশ কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় চলে? এটাকে গণতন্ত্র বলা যায় কিনা? স্যার সমস্ত দল-মতের উর্ধ্বে উঠে, সেদিন ক্লাসরুমে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন- 'বাংলাদেশে যেটা চলে, সেটাকে পরিবারতন্ত্র বলা যায় বা গোষ্ঠীতন্ত্র বলা যায় বা কতিপয়তন্ত্র বলা যায়। ঠিক গণতন্ত্র বলা যায় কি না...' 

যদিও বাংলাদেশের সরকারি নামের সাথে পিপলস রিপাবলিক আছে; সংবিধান, গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র ইত্যাদি ভারী ভারী টার্মে বোঝাই; নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্র আছে ভান করার জন্য, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে; কিন্তু আসলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চরিত্র কেমন? 

বাংলাদেশে আসলে কখনো গণতন্ত্র ছিলো কিনা এটা নিয়ে আরো ৫০-১০০ বছর পর গবেষকেরা তাত্ত্বিক আলোচনা করবেন। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়টা নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করেছে? মাঝখানে সামরিক শাসনে থেকেছে কয়বছর? কয়টা পার্টি সংসদে বসে মানুষের কথা বলেছে? এগুলো আমরা জানি। 

এখন কি চলছে সেটা নিয়ে কথা বলি।

এখন বাংলাদেশে চলছে একনায়কতান্ত্রিক কতিপয়তন্ত্র। কতিপয়তন্ত্র কেন? কারন এখানে বেশ কয়েকজন লোকের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। বেশ কয়েকটা পরিবারের হাতে ক্ষমতা আর অর্থ। এখানে কেবল আওয়ামী লীগের কথা বলা হচ্ছে না, এখানে বিএনপির কথাও বলা হচ্ছে। আসলে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একই টাইপের পার্টি, একই মুদ্রার ওপিঠ এবং এপিঠ। আওয়ামী লীগে মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হয়, এম্পির ছেলে এম্পি, বিএনপিতেও তাই। রাজনীতি আর দেশ হয়ে গেছে পারিবারিক সম্পত্তি। সংসদ হয়ে গেছে মামা বাড়ি, আইনকানুন হয়ে গেছে মামা বাড়ির আবদার, আইনজীবী আর বিচারকরা হয়ে গেছে তাদের খালু। 

বাংলাদেশের ১৬ কোটি লোক, ১৬ কোটি মত। কয়জন বুঝে ভোট দেন? কার কই বাড়ি, আগে কে এম্পি ছিলো, ক্ষমতায় কে যেতে পারে, কার বেশি টাকা আছে, কে ভোটের আগে চা খাওয়ালো, এগুলো দেখে ভোট দেন তারা। নিজের ভালো বোঝেন কয়জন ভোটার? কে আসলে কাজ করবে, ইশতেহার কয়জনের মনে থাকবে, কে রাজনীতি ব্যবহার করে ব্যবসা  করবেনা, সন্ত্রাস করবেনা, এগুলো তারা বুঝলেও, ভোটের সময় খাটান না। এতো কথার দরকার কি, এখন তো ভোট ও দেয়া লাগে না। জায়গায় দাড়াবেন, ভোট হয়ে যাবে... 

যাই হোক, বাংলাদেশের মানুষ ৫ বছরে ১ বার ১ টা ছাপ্পা দিয়েই মনে করে গণতন্ত্র এসে গেলো। ভোটাররা মনে করে তাদের কথা রাজনীতিবিদরা মনে রাখবে, নিজের গরজে এলাকার কাজ করবে। স্থানীয় প্রশাসনের সব দায়িত্বে তারা এলাকার এম্পিকে দেখতে চায়। মানুষ চায় গণপ্রতিনিধিরা তাদের কথা বলবে। মানুষের মুক্তি আসবে, দেশে উন্নয়নের চাকা লাইনেই থাকবে। চাকা কি লাইনে থাকে? লাইন হয়ে যায় আঁকাবাকা, ভালো না হাতের লেখা... 

তারা একবার আওয়ামী লীগকে সুযোগ দেয়, আরেকবার বিএনপিকে সুযোগ দেয়। দুইটাই খারাপ অপশন। বিষয়টা এমন যে আমি আপনাকে চড় মারবো নাকি লাত্থি মারবো, দুইটাই অপশন আর কোনো অপশন নাই, এবং এরমধ্যে একটা আপনাকে নেয়াই লাগবে। মজা না? এই বিষয়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উদাহরণ দিয়েছিলেন, ফেনীর সাংবাদিক টিপু। তিনি বলেছিলেন- বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়ে ঠিক করে, এই ৫ বছর কে তার পু*কি মারবে!! এই বক্তব্যের কারনে সাংবাদিক টিপুকে মেরে তার পা ভেঙে দেয়া হয়েছিলো। কে মেরেছিলো? আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপি, নাকি আওয়ামী লীগ? কি আসে যায়? টিপু তার পা হারিয়েছিলেন, আমরা চুপ হয়েছিলাম। 

কথা বলতে গিয়ে আবরার ফাহাদ খুন হলেন। সারা দেশ সমব্যথী হলো। নতুন প্রসঙ্গ মানুষের সামনে আসবে, নতুন ইস্যু মানুষের জীবনে আসতেই থাকবে। কিন্তু মৌলিক আলাপ ভুলে গেলে চলবে না। আবরার কি কারণে খুন হয়েছেন? ঠাণ্ডা মাথায় ভাবেন... আবরার খুন হয়েছেন দেশের স্বার্থে দুইটা কথা বলতে গিয়ে। 

কথাগুলো যখন আপনি একলা বলবেন তখন আপনার খুন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু যখন সকলে বলবে তখন? তখন সরকারে যেই থাকুক না কেন, দাবী মানতে বাধ্য হবে, মানুষের কথা ভাবতে বাধ্য হবে, জনতার পালস বুঝতে বাধ্য হবেই হবে। সরকার চাইবেই কথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে, এটাই সরকারের রাজনীতি, এটাই রাজনীতিবিদদের রুটিরুজি। আপনি দুই একজনকে সাথে নিয়ে মোদ্দাকথায় মাটি কামড় দিয়ে পরে থাকলে এদের পেটে লাত্থি পরে, রুটিরুজি নষ্ট হয়। বিশ্বাস করেন, এরা সংখ্যায় খুব কম; মানুষের সম্মিলিত শক্তির কাছে এরা পালকের মতোই হালকা। 

এখন আমরা একটু প্রশ্নোত্তর খেলবো। বাইনারী পদ্ধতিতে তার উত্তর দিবো। 

১. তিস্তা পানি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা কি ভারতকে ফেনী নদীর পানি দিবো? 
উত্তরঃ না। 

২. আমরা কি আমাদের বন্দর এবং বঙ্গোপসাগর এলাকায় ভারতকে নজরদারি চালাতে দিবো? 
উত্তরঃ না। 

৩. আমরা কি দেশের চাহিদা না মিটিয়ে ভারত বা অন্য যে কোনো দেশে গ্যাস রপ্তানি করতে দিবো?
উত্তরঃ না। 

৪. আমরা কি যে কোনো সরকারের যে কোনো দেশবিরোধী চুক্তি মেনে নিবো? 
উত্তরঃ না। 

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।
জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপী গরিয়সী... 

এই প্রসঙ্গে দ্বিমত থাকলে আলাপ চলতে পারে, আর একমত থাকলে দৃঢ়কণ্ঠে আওয়াজ তুলুন- 

দল বড় না দেশ বড়, 
দেশ বড়, দেশ বড়।

দেশ কার? দেশ কার? 
জনতার... জনতার... 

জয় জনতা স্লোগান তুলুন... 
বাংলাদেশের পক্ষে থাকুন... 

13 June 2019

দৈনন্দিন আলাপ ১৬

অনাচার মানে মূলত যে আচরনটা করার কথা সেটা না করা। আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে, সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে আচরন করাকেই অনাচার বলে। অনাচারের আবার বিভিন্ন মাত্রা আছে। বড়, ছোটো অনাচার। যেমন বাইক চালানোর সময় হেলমেট না পরা ছোটো অনাচার। বাইক চালানোর কিছু আদবকায়দা আছে। এরমধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ আদব হচ্ছে বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা। এতে নিজের মঙ্গল। হেলমেটের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় চালকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কিছুটা কমে আসে। 

বড় অনাচার কোনটা? যে অনাচার বৃহৎ সমাজ বা রাষ্ট্র বা জনগণের বিরুদ্ধে। যেমন দুর্নীতি। এসপি হারুনের ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে রাষ্ট্র এবং জনগণের বিরুদ্ধে অনাচার। একজন এসপির বেতন কতো? তার পরিবারের কতোজন চাকরি বা ব্যবসা করে? কতোজনের কতো বছরের কামাই এই ৪ হাজার কোটি টাকা। জনগণের কষ্টের টাকা নিজের আমেরিকায় বাড়ি কিনার পেছনে ব্যয় করার যে মানসিকতা তাই বড় অনাচার। 

ছোটো অনাচার দুই-একবার বললে বন্ধ হয়। কেউ একজন হেলমেট পরছেনা, কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করলে, ১-২ বার জরিমানা করলেই পরা শুরু করবে। নিজে পরবে, আরেকজনকে বলবে- ব্যাটা হেলমেট পর। কিন্তু বড় অনাচার এইভাবে বন্ধ হয় না। আমেরিকায় যে বাড়ি কিনতে গেছে সেকি আর দেশে আসবে? সে কি জানেনা দেশে আসলে তার কি হতে পারে? বড় অনাচার বন্ধ করার একটাই উপায়, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। তাতে যতো কষ্টই আসুক না কেন! অনাচার প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধ শক্ত হবে। কারণ যে খারাপ লোকটা আমেরিকা বাড়ি কিনতে যাচ্ছে তারে আপনি গিয়া বললেন- ভাই, বাড়িটা কিন্নেন না। আর সে শুনলো!? 

সে কখনো শুনবে না। কারণ আপনার কথা শুনলে, জনগণের কথা ভাবলে তার ব্যক্তিগত সুখশান্তি ব্যহত হবে। জনগণের দুইবেলা খাবারের চে, তার কাছে তার বাচ্চার আমেরিকার বাড়ি গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে কি করতে হবে? তাকে প্রথমে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হব। সে যদি আমেরিকা থাকে আমেরিকার বাংলাদেশী কম্যুনিটি তাকে বয়কট করবে। এবং বাকী কম্যুনিটিগুলোতে তাকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তাকে দেখিয়ে দিয়ে বলতে হবে- এই লোক বাংলাদেশের জনগণের হক মেরে খেয়ে আমেরিকা এসে আমোদফুর্তি করছে। এবং এর পাশাপাশি তাকে আইন ও বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করতে হবে। দেশীয় আইনে তার বিচার হতে হবে। সরকার গরিমসি করলে জনতাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণশুনানি করবে। কারণ জনতাই সরকার। 

বিচার বা গণশুনানির রায় আমেরিকা বা যে দেশে সে থাকবে সেখানে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা দেশে এম্বাসি ঘেরাও করে হোক বা বিদেশে মিশন পাঠিয়ে হোক। পৃথিবীর যে প্রান্তেই সে থাকুক না কেন, তার সাথে থাকা অর্থসম্পদ বাংলাদেশের জনগণের কষ্টের কামাই। 

এসপি হারুন বা আমেরিকায় বাড়ি উদাহরণ মাত্র। কতো শত দুর্নীতির মধ্য দিয়ে জাতি এক অস্থির সময় পার করছে, তার ইয়ত্তা নাই। বাংলাদেশের দুর্নীতি বাইরে থেকে এসে কেউ বন্ধ করবে না। এটা বন্ধ করতে হবে বাংলাদেশীদেরই। আজ করলেও করবেন, কাল করলেও করবেন। তাহলে আজ কেন নয়? কণ্ঠে আওয়াজ তুলুন। 

সাম্প্রতিক খবর, ব্যাংকগুলোতে ঋণখেলাপির পরিমান ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকে চাকরি করেন মাত্রই জানেন, ব্যাংকগুলোতে টাকা নাই, আছে কেবল কাগজ আর হিসাব। এই ঘাটতি সরকার আর ব্যাংকগুলো কোত্থেকে পূরন করবে কে জানে? মুদ্রাস্ফিতি বাড়ছে, বেকারত্ব বাড়ছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে। সাধারণ মানুষ এইসব টার্ম বোঝেনা। তারা বোঝে ৩৫ টাকার চাল ৫০ টাকা হইছে। আগে ১ কেজি গরুর মাংস কিনতো, এখন আধা কেজি কিনা সেখানে আলু বাড়ায়া দিয়া রানতে হবে। তাদের কণ্ঠ হয়ে কথা বলুন। 

কেন কথা বলবেন? দেশ দুর্নীতিমুক্ত হইয়ে আগায়া গেলে আপনারই লাভ। আপনার বাচ্চার লাভ, সে বড় হয়ে নিজেকে সভ্য বাংলাদেশী বলে পরিচয় দিতে পারবে। আপনার ভাস্তির লাভ, যার বয়স এখন ৩ বছর। সে রাতে কাজ শেষ করে নির্ভয়ে বাসায় আসতে পারবে। রাতে আপনার নাতিকে গল্প শোনাবে, আগে বাংলাদেশে দুর্নীতি ছিলো, কোনো কাজ ঠিকমতো হতো না, এখন দেখো এগুলো নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু মুক্তি আসে নাই। যে অনাচারে আগের বৃটিশরা, পাকিস্তানিরা আমাদের ফেলে রেখেছিলো; আফসোস, এখন নিজের জাতির লোকেরাই সেই আচরন করে। এই কারণে স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরেও আমাদের ইনায়া বিনায়া বলতে হয়- সুশাসন আনেন, দুর্নীতি কমান, স্বচ্ছতা বাড়ান, জবাবদিহিতা বাড়ান। মনে রাখবেন, সরকার সবসময় তোষামোদকারীদের দখলে থাকে। তারা সরকারের সামনে মধু ঢালে, আর পেছনে পুকুর কাটতে কাটতে সমুদ্র বানায়া ফেলে। কিন্তু সরকার কে? 

১৯৪৭ সালে লর্ড মাউন্টব্যাটেন, ভারতবর্ষের শেষ ভাইসরয়, বৃটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তার তেজস্বী পোষাকগুলো রাষ্ট্রপতির ব্যান্ডবাদকদের দিয়ে দেয়া হলো। তাই বেশি অহংকার করতে নেই। কিসের অহংকার? আজকে যেটা মাউন্টব্যাটেনের পোষাক, কালকে সেটা ব্যান্ডবাদকের পোষাক। সরকার আসে, থাকে, চলে যায়। দেশ জনতার, দেশ চলবেও জনতার ইচ্ছা অনুযায়ী। জনতাই সরকার। 

জনতা যদি খারাপ থাকে, জনতা যদি কষ্টে থাকে, জনতা যদি না খায়া থাকে, তারা যদি দেশ থেকে চলে গিয়ে সুখী হতে চায়, সরকার দিয়া আমরা কি করবো? জনতার স্বার্থই জাতীয় স্বার্থ। 

তাই, জয় জনতা শ্লোগান তুলুন, জনগণের পক্ষে থাকুন।