কিছু কিছু রাজনীতিবিদ একটা খুন বা ধর্ষণ হওয়ার পর ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তারা দেখেন খুনের সাথে কোনো মেয়ের সম্পর্ক আছে কিনা। এই সমাজে মেয়ে একটা সেন্সেটিভ বিষয়। যাই হোক না কেন মেয়েটার চরিত্র ভালো না। মেয়েদের চরিত্র এতো কোমল বিষয় যে পাতা নড়লেও তাদের স্বভাব খারাপ হয়।
সাগর-রুনি মারা যাওয়ার পর এরা বলেছে রুনির চরিত্র খারাপ ছিলো। তনু মারা যাওয়ার পর বললো- তনুর চরিত্র খারাপ ছিলো। এখন রিফাত মারা যাওয়ার পর তার বৌ এর ও চরিত্র খারাপ ছিলো। এই বিষয়ে গ্রামবাংলার একটা প্রবচন আছে- নিজের পুটকিতে গু রাইখা আরেকজনের পাছায় কাপড় নাই দেখতে যাওয়া।
আফসোস বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা অপরের পশ্চাতদেশ নিয়ে যতটা সোচ্চার, নিজের বর্জ্য পদার্থ নিয়ে এতোটা সোচ্চার নয়। তারা নিজেরা বিভিন্ন রকম দুর্নীতির সাথে যুক্ত থেকে, আরেকজনের চরিত্র নিয়ে কথা বলেন।
দুইএকজনকে বলতে শুনলাম- মেয়েটা বেশ্যা ছিলো। এককথায় মেয়েদের বেশ্যা বলে ফেলা পুরুষদের চিনে রাখুন। এরা হলো সেই মাদারচোদ প্রকৃতির পুরুষ, যারা আরেকজনের চরিত্র হননকে নিজের অস্ত্র মনে করে। এই ঘটনার মাধ্যমে তারা কাউকে কাউকে বাচানোর চেষ্টা করে৷
প্রথমত তারা খুনি আর ধর্ষককে বাচানোর চেষ্টা করে। দ্বিতীয়ত তারা দেশের বিদ্যমান বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে জোড়াতালি দেয়ার চেষ্টা করে। মানে দেশে বিচার নাই এইজন্য খুন হয়েছে এই দিক থেকে জনতার নজর সরায়া তারা তাকে নিয়ে যায় মেয়েটার চরিত্রের দিকে। এতে খুনি-ধর্ষকদের নৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু মেয়েটার চরিত্র খারাপ ছিলো, ধর্ষনটা হওয়া স্বাভাবিক।
খুন ও ধর্ষন নিজেই একটা অপরাধ। এমনকি যদি কেউ বেশ্যা হয় তাকেও ধর্ষন করা অপরাধ। আবার খুনের পর অতি উৎসাহী জনতা অপরাধীর ক্রসফায়ার চায়। ক্রসফায়ার নিজেই একটা বিচারহীন প্রক্রিয়া। মানে এক বিচার নাই ঠেকাইতে আমরা চাচ্ছি আরেকটা বিচার নাই।
যদি তনু হত্যার বিচার হতো তাইলে নুসরাত হত্যা হতো না। নুসরাত হত্যার বিচার যেহেতু হচ্ছে না তাই এইরকম আরো ঘটনা সামনে আসছে আশা করা যায়। বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার হলে রিফাত হত্যা হতো না। এইভাবে একটা অপরাধের সাথে আরেকটা অপরাধ সম্পর্কিত।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচারহীনতার এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জনতার ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে কথা হতে পারে৷
No comments:
Post a Comment