ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি আমরা।
আমাদের একপাশে স্বৈরাচারী সরকার ও তার লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাট, অরাজকতা ও অব্যবস্থাপনা, জীবনের সর্বস্তরে শোষণ এবং ধনী-গরিবের বৈষম্য।
অপরপাশে দেশকে বদলানোর অফুরন্ত সুযোগ, একটি দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত রাষ্ট্র, সমাজ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ, আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাওয়া স্বনির্ভর-স্বাবলম্বী বাংলাদেশের স্বপ্ন।
আমাদের আসলে হারানোর কিছু নাই। এর মধ্যে যা হবে সব অর্জন।
আমদের সংগ্রাম দুইটা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে।
একদিকে সরকারের স্বেচ্ছাচার-স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও লুটপাট, শোষণ ও বৈষম্য। অপর ফ্রন্টে জনতার মধ্যে প্রোথিত দীর্ঘদিনের অশিক্ষা-কুসংস্কার, কলোনিয়াল মানসিকতা, বৈষম্যে অভ্যস্ততা ইত্যাদি।
সংগ্রামটা সমানভাবে চালাতে হবে দুই ফ্রন্টের বিরুদ্ধে। আমরা যে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সরকারের স্বৈরাচার ও জনতার মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারলে সে স্বপ্ন কখনো সফল হবে না।
প্রশ্ন হলো কোনটা আগে দরকার, কোনটা পরে দরকার! কোন সংগ্রামই অগুরুত্বপূর্ণ নয়। দুইটাই সমানভাবে চালাতে হবে। সরকারকে তার দুর্নীতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে জনতা। আর রাষ্ট্র জনতার জন্য জনতাবাদী পলিসি বাস্তবায়ন করবে। জনতার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও কলোনিয়াল মানসিকতা দূর করা গেলেই, জনতা আগামীর বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হবে। তার আগে জনতার প্রস্তুত হতে হবে সরকারের অসীম ক্ষমতা আর তার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।
জনতার জন্য রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের জন্য জনতা নয়।
যে সরকার জনতার আশা-আকাঙ্খা পূরন করতে ব্যর্থ, সে সরকারের দরকার নাই। সে সরকারকে জনতা ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাড়া করাবে। আস্তাকূড়ে নিক্ষেপ করবে।
এই সংগ্রামে জয় জনতার। আগামীর বাংলাদেশ- জনতার বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত, স্বনির্ভর-আধুনিক বাংলাদেশ। সমস্ত প্রতিকূলতাকে প্রবল ঝড়ের মতো ঝেরে ফেলে বাংলাদেশের জনতা নিজেদের জন্য এমন রাষ্ট্র নির্মান করবে।
কলোনিয়াল মানসিকতা আমাদের এতো দূরে নিয়ে গেছে যে, প্রতি পরিবার থেকে একজনের ভিকটিম না হওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকবো। আমাদের বাবা চিকিৎসা না পেয়ে ৮-১০ হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে রাস্তায় মরবে। আমাদের বোন ধর্ষণের পর পাশের জঙ্গলে মৃত পরে থাকবে, আর তার খুনীরা ক্ষমতা দেখিয়ে ঘুরে বেড়াবে, মামলা না করার জন্য আপনাকেই চাপ দিবে, থানা-পুলিশকে টাকা দিয়ে কিনে নিবে। আপনার ভাই কৃষক বা শ্রমিক, ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে পাউরুটি চুরি করতে গিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের পায়ের নিচে পরবে।
যতোদিন আপনি অত্যাচারিতের অনুভূতি অনুভব করতে না পারবেন, ততোদিন আওয়াজ করার দরকার নাই। কিন্তু আপনি যদি দেখে থাকেন, যা চোখের দেখা উচিত; আপনি যদি শুনে থাকেন, যা চোখের শোনা উচিত; আপনার হৃদয় যদি অনুভব করে থাকে, যা হৃদয়ের অনুভব করা উচিত, তাহলে চুপ করে থাকবেন না।
হৃদয়ের আওয়াজ শুনতে শুনতে যদি আপনি বুঝতে পারেন, আপনি একটি অরাজক রাষ্ট্রে আছেন; যদি আপনি বুঝতে পারেন এমন এক দেশে আপনি আছেন, যে দেশ আপনি আশা করেন না, তাহলে আওয়াজ তুলুন। যে যার জায়গা থেকে আওয়াজ তুলুন। দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন।
আমাদের স্বামর্থ্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের পূর্বপুরুষ একটা প্রশিক্ষিত সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে পরনের লুংগি গিট দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো বলেই আজ আমরা স্বাধীন। আপনার আওয়াজহীনতা স্বৈরাচারকে শক্তি জোগালে পরের প্রজন্মকে কি জবাব দিবেন, সেটা এখনি প্রস্তুত করে রাখুন।
কারণ আগামীর বাংলাদেশ- জনতার বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত, স্বনির্ভর-আধুনিক বাংলাদেশ।
জয় জনতা।
No comments:
Post a Comment