![]() |
| ইরাকি কুর্দিস্থানের পতাকা |
কুর্দিরা পৃথিবীর বৃহত্তম জাতি
বা নৃগোষ্ঠী যাদের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্র নেই। তাদের বসবাস এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যে।
মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে বৃহত্তম সংখ্যালঘু জাতি। রাষ্ট্র নেই, তাই রাষ্ট্র দিয়ে
তাদের চিহ্নিত করা কঠিন। তাদের অবস্থান ইরানের পশ্চিম পাশে, তুরস্কের পূর্ব এবং
দক্ষিণ পাশে, ইরাকের উত্তর পাশে এবং সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব পাশে। তাদের বাসস্থানকে
বলা হয় ‘কুর্দিস্থান’। এই চারটি দেশ ছাড়া আজারবাইজান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া,
জার্মানি, ফ্রান্স এবং রাশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুর্দি বসবাস করেন। সব মিলিয়ে
তাদের সংখ্যা ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি।
জাতি হিসেবে কুর্দিদের রয়েছে
আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি। জাতি হিসেবে তাদের খুব সহজেই পার্শ্ববর্তী তুর্কি ও
আরবদের থেকে আলাদা করা যায়। তবে ইরানিদের সাথে তাদের সংস্কৃতিগত মিলের কারণে
কুর্দিদের ইরানি মহাজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইরানি মহাজাতির বাকি জাতিদের মধ্যে
উল্লেখযোগ্য ইরানি (ফার্সি-ভাষী), আজারবাইজানি, তুর্কমেনি, বালুচ, পশতু, তাজিক, তালিশ,
লুর, তাত, ওশেতিয় ইত্যাদি।
তুরস্কের মোট জনসংখ্যার প্রায়
২০% কুর্দি। ইরাকে ১৫%, ইরানে ১০% এবং সিরিয়ায় ৯% জনসংখ্যা কুর্দি। সংখ্যার হিসাবে
তুরস্কে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ, ইরানে ৬০ থেকে ৮০ লাখ, ইরাকে ৬০
থেকে ৭০ লাখ, সিরিয়ায় ২০ থেকে ২৫ লাখ।
![]() |
| কুর্দিস্থানের মানচিত্র। পার্শ্ববর্তী তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়া। |
কুর্দি জাতির ভাষা ‘কুর্দি ভাষা’।
তবে এ ভাষায় পাঁচটি উপভাষা আছে। উপভাষারা বেশ পরিষ্কারভাবে বিচ্ছিন্ন। কুর্দির
উপভাষাগুলো হচ্ছে- কুরমানজি, সোরানি, গোরানি, যাযাকি ও পেহলাওয়ানি। সিরিয় কুর্দিরা
বেশিরভাগ ব্যবহার করেন কুরমানজি। ইরাকি কুর্দিরা ব্যবহার করেন কুরমানজি আর সোরানি।
ইরানি কুর্দিরা ব্যবহার করেন যাযাকি বাদ দিয়ে বাকি উপভাষাগুলো। আর তুরস্কের
কুর্দিরা ব্যবহার করেন পেহলাওয়ানি বাদ দিয়ে বাকি উপভাষাগুলো।
কুর্দিরা মূলত সুন্নি মুসলিম।
সুন্নি মুসলিমরা সংখ্যায় প্রায় ৮০%। এছাড়া ১৫% কুর্দি শিয়া মুসলিম। আর বাদবাকি ৫%
কুর্দি খ্রিস্টিয়ান, ইহুদি, ইয়াজিদি, ইয়ারসানি, মানদিয়ান, বাহাই, জরথুস্ত্র এবং
নির্ধর্মী। জাতিগতভাবে কুর্দিরা ধর্মপ্রসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদি এবং পরমতসহিষ্ণু।
সুন্নি এবং শিয়া উভয় ভাগের মুসলিমদের মধ্যে সুফিবাদের ব্যপক প্রভাব লক্ষণীয়।
স্বাধীনতার জন্য কুর্দিরা অনেক
আগে থেকে লড়াই করে আসছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পরলে কুর্দিরাও
জাতিরাষ্ট্র গঠন করতে চায়। তাদের সে ইচ্ছা বিভিন্ন দেশের ভাগাভাগিতে চাপা পরে যায়।
চারটি দেশেই তারা দ্বিতীয় শ্রেনির নাগরিকে পরিণত হয়। তুরস্কে তাদের অবস্থা হয়
সবচেয়ে শোচনীয়। সেখানে কুর্দি, কুর্দিস্থান এইসব শব্দ ব্যবহার করা আইনত নিষেধ।
ইরানে একটি প্রদেশকে কুর্দিস্থান করা হয়। ইরাকে কুর্দি অধ্যুষিত তিনটি প্রদেশকে
একত্রে ‘কুর্দিস্থান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ করা হয়। অতি সম্প্রতি সিরিয়ার
গৃহযুদ্ধের ফলস্বরুপ উত্তরের কুর্দিরা ‘রোজাভা কুর্দিস্থান’ গঠন করে। ইরাক ও
সিরিয়ার কুর্দিরা এখন কার্যত স্বাধীন।


No comments:
Post a Comment