Showing posts with label জেন্দাবেস্তা. Show all posts
Showing posts with label জেন্দাবেস্তা. Show all posts

22 July 2017

পবিত্র জেন্দাবেস্তা- প্রথম খণ্ড ভেন্দিদাদ- পঞ্চম অধ্যায়- ১-৫ অংশ

ফারগার্দ ৫

অংশ ১ক

১। উপত্যকার গভীরে একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করলোএকটি পাখি পর্বতের চূড়া থেকে উড়ে গিয়ে উপত্যকার গভীরে নিচে নেমে গেলো। এবং সেখানে সে মৃতব্যক্তির শব খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলো। তারপর সে উড়ে চলে এলো উপত্যকার গভীর থেকে পর্বতের চূড়াতে। সে সেখানে গাছ থেকে গাছে ঘুরে বেড়াবে, শক্ত কাঠের গাছ থেকে নরম কাঠের গাছে। এবং সে সেই গাছগুলোর উপর বমি করবে, উৎপন্ন করবে বর্জ্য। যেখানে থাকবে মৃতব্যক্তির শরীরের অংশ।
২। এখন, এখানে একজন মানুষ আসলো, উপত্যকার গভীর থেকে পর্বতের চূড়াতে। সে সেইসব গাছগুলোর কাছে আসলো, যেখানে পাখি বসেছিলো। সেই গাছ থেকে মানুষ কাঠ সংগ্রহ করে আগুন জ্বালানোর জন্য। মানুষ সেই গাছ ফেলে, সেই গাছ কাটে, সেই গাছকে কাঠের গুঁড়িতে ভাগ করে এবং তারপর সে সেখান থেকে জ্বালে আগুন; আগুন, আহুর মাজদার সন্তান। তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত?
৩। আহুর মাজদা বললেন- সেখানে কোনো পাপ নেই, সেই ব্যক্তির জন্য যে মৃত, যে গৃহীত হবে কুকুরের দ্বারা, পাখির দ্বারা, নেকড়ের দ্বারা, বাতাসের দ্বারা বা মাছির দ্বারা।
৪। সেইজন্য সেখানে পাপ হবে, সেইসব ব্যক্তির যারা এই মৃতব্যক্তির জন্য অপরাধী; সেই মৃতব্যক্তি যে গৃহীত হয়েছে কুকুরের দ্বারা, পাখির দ্বারা, নেকড়ের দ্বারা, বাতাসের দ্বারা বা মাছির দ্বারা। কতো শীঘ্র, আমার সৃষ্টিজগত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, এইসব মৃতব্যক্তির অপরাধে অপরাধীর দ্বারা; যারা পবিত্রতার বাইরে, যাদের আত্মা কাঁদবে এবং বিলাপ করবে। কারন, অগণিত সত্ত্বা মাটির উপরিভাগেই মৃত্যুবরণ করে।

অংশ ১খ

৫। হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; এখানে একজন ব্যক্তি শষ্যের জমিতে জল দিচ্ছে। জল তার জমিতে প্রবাহিত হলো, আবারো প্রবাহিত হলো, তৃতীয়বার প্রবাহিত হলো, চতুর্থবারও প্রবাহিত হলো। এবং চতুর্থ বারের সময়, একটি কুকুর বা একটি শেয়াল বা একটি নেকড়ে; একটি মৃতদেহ সাথে করে নিয়ে এলো, সেই জলপ্রবাহিত জমির উপর। সেই ব্যক্তির জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত?
৬। আহুর মাজদা বললেন- সেখানে কোনো পাপ নেই, সেই ব্যক্তির জন্য যে মৃত, যে গৃহীত হবে কুকুরের দ্বারা, পাখির দ্বারা, নেকড়ের দ্বারা, বাতাসের দ্বারা বা মাছির দ্বারা।
৭। সেইজন্য সেখানে পাপ হবে, সেইসব ব্যক্তির যারা এই মৃতব্যক্তির জন্য অপরাধী; সেই মৃতব্যক্তি যে গৃহীত হয়েছে কুকুরের দ্বারা, পাখির দ্বারা, নেকড়ের দ্বারা, বাতাসের দ্বারা বা মাছির দ্বারা। কতো শীঘ্র, আমার সৃষ্টিজগত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, এইসব মৃতব্যক্তির অপরাধে অপরাধীর দ্বারা; যারা পবিত্রতার বাইরে, যাদের আত্মা কাঁদবে এবং বিলাপ করবে। কারন, অগণিত সত্ত্বা মাটির উপরিভাগেই মৃত্যুবরণ করে।

অংশ ২ক

৮। হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; জল হত্যা করে কি?
আহুর মাজদা বললেন- জল কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে না। অস্ত-বিধৌত তার ঘাড়ে ফাঁস বাঁধে এবং বায়ু তাকে বহন করে। তারপর তাকে বন্যা গ্রহণ করে, বন্যা তাকে নিচে নিয়ে যায়, বন্যা তাকে কূলে নিক্ষেপ করে। সেখানে সে পাখিদের খাবার হয়, এবং নিয়তি তাকে নিয়ে যায় এখানে এবং নিয়ে যায় সেখানে।

অংশ ২খ

৯। হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; আগুন হত্যা করে কি?
আহুর মাজদা বললেন- আগুন কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে না। অস্ত-বিধৌত তার ঘাড়ে ফাঁস বাঁধে এবং বায়ু তাকে বহন করে। আগুন তাকে পোড়ায়, তার জীবন এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, এবং তারপর নিয়তি তাকে নিয়ে যায় এখানে এবং নিয়ে যায় সেখানে।

অংশ ৩

১০। হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি গ্রীষ্ম অতীত হয় এবং শীত আসে, আহুর মাজদার পূজারীরা তখন কি করবে?
আহুর মাহদা বললেন- প্রত্যেক বাড়িতে এবং প্রত্যেক নগরে তারা তৈরী করবে, তিনটি করে মৃতদের জন্য ঘর।
১১। হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; মৃতদের জন্য ঘরগুলো কতো বড় হবে?
আহুর মাজদা বললেন- যথেষ্ট পরিমান বড়, যেনো তা খুলিতে আঘাত না করে, বা পায়ে আঘাত না করে, বা একজন ব্যক্তির হাতে আঘাত না করে যদি কোনো ব্যক্তি সোজা হয়ে দাঁড়ায়, বা তার পা সোজা করে, বা তার হাত বিস্তৃত করে আর এমনটাই হলো, মৃতদের জন্য ঘরের ব্যাপারে আইন
১২ এবং তারা সেখানে রাখবে প্রাণহীন মৃতদেহ, দুই রাতের জন্য, বা তিন রাতের জন্য, বা এক মাসের জন্য; যতক্ষণ না পর্যন্ত পাখিরা উড়তে শুরু করে, গুল্মেরা গজাতে শুরু করে, বন্যারা বইতে শুরু করে এবং বাতাস শুকনো হতে শুরু করে যতক্ষণ না পর্যন্ত শীত অতীত হয়
১৩ এবং যখন পাখিরা উড়তে শুরু করবে, গুল্মেরা গজাতে শুরু করবে, বন্যারা বইতে শুরু করবে এবং বাতাস শুকনো হতে শুরু করবে; যখন শীত অতীত হবে, তখন মাজদার পূজারীরা, মৃতদেহ দাখমায় শুইয়ে দিয়ে আসবে, যেনো তার চোখ সূর্যের দিকে থাকে।
১৪। যদি মাজদার পূজারীরা ব্যর্থ হয়, এক বছরের মধ্যে, মৃতদেহ দাখমায় শুইয়ে দিতে, যেনো তার চোখ সূর্যের দিকে থাকে; তবে তারা কোনো বিশ্বাসীকে হত্যার অপরাধে অপরাধীর মতো, একই অপরাধে অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না মৃতদেহ বৃষ্টিতে না ধোয়, যতক্ষণ না দাখমা বৃষ্টিতে না ধোয়, যতক্ষণ না অপরিচ্ছন্ন বিষয়াদি বৃষ্টিতে না ধোয় এবং যতক্ষণ না পাখি সে মৃতদেহ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

অংশ ৪

১৫। হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; এটা কি সত্য যে তুমি, আহুর মাজদা, বাতাস এবং মেঘেদের সাথে পাঠাও জলকে, ভৌরুকশা সমুদ্র থেকে?
১৬। তুমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করো মৃতদেহের উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য? তুমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করো দাখমার উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য? তুমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করো সমস্ত অপবিত্র বিষয়াদির উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য? তুমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করো হাড়ের উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য? এবং তুমি, আহুর মাজদা, তাদের ফিরিয়ে নাও, অদেখা কোথাও? তুমি, আহুর মাজদা, তাদের ফিরিয়ে নাও, পূতিকা সাগরে?
১৭। আহুর মাজদা বললেন- এই ঘটনাটি এইরকমই, যেমনটি তুমি বললে, হে ন্যায়পরায়ণ জরথুস্ত্র আমি, আহুর মাজদা, বাতাস এবং মেঘেদের সাথে পাঠিয়েছি জলকে, ভৌরুকশা সমুদ্র থেকে
১৮ আমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করেছি মৃতদেহের উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য আমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করেছি দাখমার উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য আমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করেছি সমস্ত অপবিত্র বিষয়াদির উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য আমি, আহুর মাজদা, তাদের তৈরী করেছি হাড়ের উপর প্রবাহিত হওয়ার জন্য তারপর, আমি, আহুর মাজদা, তাদের ফিরিয়ে নিয়েছি, অদেখা কোথাও আমি, আহুর মাজদা, তাদের ফিরিয়ে নিয়েছি, পূতিকা সাগরে
১৯ সেখানে জলেরা অবস্থান করে ফোটার জন্য তারা পূতিকা সাগরের অভ্যন্তরে ফোটে এবং যখন তারা পূত হয়, পূতিকা সাগর থেকে তারা চলে আসে ভৌরুকশা সমুদ্রে, হারভিস্পতোখম অভিমুখে যেখানে জন্মায় প্রত্যেক প্রজাতির উদ্ভিদের, সমস্ত বীজ তারা জন্মায় শতে, হাজারে, বা শত হাজারে
২০ আমি, আহুর মাজদা, পৃথিবীতে বৃষ্টি দেই, যেনো জন্মায় উদ্ভিদ যেনো বিশ্বাসীরা সেখানে পায়, খাদ্য এবং উপকারী গাভীরা সেখানে পায়, খাদ্য যেনো খাদ্য গ্রহণ করে, বিশ্বাসীরা বেঁচে থাকে এবং খাদ্য গ্রহণ করে, উপকারী গাভীরা

অংশ ৫

২১ এটি, সমস্ত বিষয়াদির চেয়ে সর্বোত্তম; এটি, সমস্ত বিষয়াদির চেয়ে সবচেয়ে আনন্দদায়ক; যেমনটা তুমি বলে থাকো, হে ন্যায়পরায়ণ জরথুস্ত্র
পবিত্র আহুর মাজদা, পবিত্র জরথুস্ত্রের সাথে, আনন্দিত হন, এই বাক্যের দ্বারা-
পবিত্রতা মানুষের জন্য, তার পরবর্তী জীবনের জন্য, যা সর্বোৎকৃষ্ট উত্তম; যে পবিত্রতা অর্জন করা হয় মাজদার আইনের মাধ্যমে; তার জন্য, যে তার নিজেকে বিশোধন করে সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য এবং সৎ চুক্তির মাধ্যমে
২২ হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; এই আইন, অশুভশক্তি-ধ্বংসকারী জরথুস্ত্রের এই আইন; কোন কোন মহানত্ব, উত্তমত্ব এবং ন্যায্যতার কারনে আর অন্য সব বাচন থেকে মহান, উত্তম এবং ন্যায্য?
২৩ আহুর মাজদা বললেন- যেমন ভৌরুকশা সমুদ্রের বন্যা, অন্যসব বন্যার চেয়ে উপরে; তেমনি এই আইন, অশুভশক্তি-ধ্বংসকারী জরথুস্ত্রের এই আইন, অন্য সব বাচন থেকে মহান, উত্তম এবং ন্যায্য
২৪ যেমন কোনো বিশাল স্রোত দ্রুত প্রবাহিত হয়, সরু কোনো ছোট নদীর চেয়ে; তেমনি এই আইন, অশুভশক্তি-ধ্বংসকারী জরথুস্ত্রের এই আইন, অন্য সব বাচন থেকে মহান, উত্তম এবং ন্যায্য
যেমন কোনো সুউচ্চ বিশাল বৃক্ষ ছায়াদান করে, তার নিচে থাকা গুল্মদের; সে ছায়াদানকারী সুউচ্চ বৃক্ষের মতো এই আইন, অশুভশক্তি-ধ্বংসকারী জরথুস্ত্রের এই আইন, অন্য সব বাচন থেকে উচ্চতর মহান, উত্তম এবং ন্যায্য
২৫ যেমন পৃথিবীর চেয়ে স্বর্গ উচ্চে অবস্থিত, এবং চারপাশে ঘিরে থাকে; তেমনি এই আইন, অশুভশক্তি-ধ্বংসকারী মাজদার এই আইন, অন্য সব বাচন থেকে উচ্চে অবস্থিত
২৬ অতঃপর, রাতু তার জন্য আবেদন করবে, স্রাওশা-ভারেজ তার জন্য ক্রন্দন করবে যা সে চিন্তা করেছে, যা চিন্তা করা তার উচিত হয়নি; অথবা যা সে চিন্তা করেনি, যা চিন্তা করা তার উচিত ছিলো যা সে বলছে, যা বলা তার উচিত হয় নি; অথবা যা সে বলেনি, যা বলা তার উচিত ছিলো যা সে করেছে, যা করা তার উচিত হয়নি; অথবা যা সে করেনি, যা করা তার উচিত ছিলো রাতু তার প্রাপ্য শাস্তির এক-তৃতীয়াংশ ক্ষমা করার ক্ষমতা রাখে যদি তার আর কোনো অসৎ চিন্তা না থেকে থাকে, তাহলে তাকে অনুশোচনার জন্য ক্ষমা করা হোক যদি তার আর কোনো অসৎ চিন্তা না থেকে থাকে, তাহলে তাকে তার পাপ থেকে মুক্তি দেয়া হোক সবসময়ের এবং সবসময়ের জন্য


[পাদটীকা সংযুক্তি

পদ ৮অস্তবিধৌতচতুর্থ অধ্যায়, পাদটীকা- পদ ৪৯ দ্রষ্টব্য
পদ ১৩... দাখমা... তৃতীয় অধ্যায়, পাদটীকা- পদ ৯ দ্রষ্টব্য।
পদ ১৫... ভৌরুকশা সমুদ্র... অর্থাৎ মেঘেদের সমুদ্র। পারসিক ধর্মমতে, বৃষ্টি হয়ে জল পৃথিবীতে নেমে আসার আগে, এখানে জমা হয়।
পদ ১৬... পূতিকা সাগর... অর্থাৎ পবিত্র সাগর। পারসিক ধর্মমতে, জল প্রথমে অদেখা কোথাও চলে যায়। সেখান থেকে যায় পূতিকা সাগরে। সেখানে জল পবিত্র হয়। তারপর জল যায় ভৌরুকশা সমুদ্রে।
পদ ১৯... হারভিস্পতোখমঅর্থাৎ সমস্ত বীজের গাছ। ‘...ভৌরুকশা সমুদ্রের মধ্যখানে, যে গাছে সমস্ত প্রজাতির উদ্ভিদের বীজ জন্মায়। সেখানে থাকে স্বর্গীয় পাখি- সিনাম্রু। ওই গাছে বসে সে। যখন সে গাছ থেকে উড়ে যায়, সেখানে জন্মায় হাজার নতুন ডাল। আবার যখন সে গাছে অবতরণ করে, হাজার ডাল সেখান থেকে ভেঙে যায়। হাজার ডালের বীজ যত্রতত্র ছড়িয়ে পরেবৃষ্টির মাধ্যমে বৃষ্টি-দেবতা, তিস্ত্রা, সেগুলো পৃথিবীতে নামিয়ে নিয়ে আসেন।’ (আবেস্তান ব্যাখ্যা গ্রন্থ- ‘বুনদাহিস’ থেকে)
পদ ২৬... রাতু... বর্তমানে বলা হয়, দাস্তুর। অর্থাৎ পুরোহিত বিচারক। পারসিক ধর্মে যে পুরোহিত বিচারকের ভূমিকাও পালন করেন তাকে রাতু বা দাস্তুর বলা হয়। একজন রাতু পারসিক সমাজের আধ্যাত্মিক প্রধান। ‘...রাতু প্রাপ্য শাস্তির এক-তৃতীয়াংশ ক্ষমা করে দিলে, ঈশ্বর পুরোটাই ক্ষমা করে দেন।’ (পহ্লবী ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘সাদ্দার’ থেকে)
পদ ২৬... স্রাওশা-ভারেজ... শাস্তি প্রদানের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত পুরোহিত।] 

2 January 2016

পবিত্র জেন্দাবেস্তা- প্রথম খন্ড ভেন্দিদাদ- চতুর্থ অধ্যায়



ফারগার্দ ৪

চুক্তি ও নিষ্ঠুরতা
অংশ ১
১. ঋণ করা কোনো বস্তু যখন ফেরত চাওয়া হয়, যদি তা ফেরত না দেয়া হয়, তাহলে সেটা যেনো কোনো মানুষের সম্পদ হরণ করা হলো। প্রত্যেক দিন এবং প্রত্যেক রাতের জন্য তার জবাব দিতে হবে, যতোদিন তার প্রতিবেশীর সম্পত্তি, তার নিজের কাছে, নিজের মতো থাকবে।
অংশ ২ক
২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; হে আহুর মাজদা, এখানে কতো সংখ্যক চুক্তি আছে? আহুর মাজদা বললেন- তারা সংখ্যায় ছয়। প্রথমটি মৌখিক চুক্তি, দ্বিতীয়টি লিখিত চুক্তি, তৃতীয় চুক্তিটি একটি ভেড়ার মূল্যের সমান, চতুর্থ চুক্তিটি একটি ষাড়ের মূল্যের সমান, পঞ্চম চুক্তিটি একটি মানুষের মূল্যের সমান এবং ষষ্ঠ চুক্তিটি একটি জমির মূল্যের সমান। জমিটি উত্তম এবং একজন বিশ্বাষীর জমি।
অংশ ২খ
৩. যদি কোনো ব্যক্তি মৌখিক চুক্তি করে এবং তা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়; সে তা পরিশোধ করবে, লিখিত চুক্তি দ্বারা। সে নতিস্বীকার করে বন্ধক রাখবে, লিখিত চুক্তি।
৪. লিখিত চুক্তি পরিশোধ করবে, ভেড়া-সমমূল্যের চুক্তি দ্বারা। সে নতিস্বীকার করে বন্ধক রাখবে, ভেড়া-সমমূল্যের চুক্তি। ভেড়া-সমমূল্যের চুক্তি পরিশোধ করবে, ষাড়-সমমূল্যের চুক্তি দ্বারা। সে নতিস্বীকার করে বন্ধক রাখবে, ষাড়-সমমূল্যের চুক্তি। ষাড়-সমমূল্যের চুক্তি পরিশোধ করবে, মানুষ-সমমূল্যের চুক্তি দ্বারা। সে নতিস্বীকার করে বন্ধক রাখবে, মানুষ-সমমূল্যের চুক্তি। মানুষ-সমমূল্যের চুক্তি পরিশোধ করবে, জমি-সমমূল্যের চুক্তি দ্বারা। সে নতিস্বীকার করে বন্ধক রাখবে, জমি-সমমূল্যের চুক্তি।
অংশ ২গ
৫. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি মৌখিক চুক্তি ভঙ্গ করে, তার পাপের সাথে কতোজন জড়িত হয়? আহুর মাজদা বললেন- তার পাপ, তার নবম উত্তর পুরুষ পর্যন্ত দায়ী করে, তিনশত বৎসরের প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি লিখিত চুক্তি ভঙ্গ করে, তার পাপের সাথে কতোজন জড়িত হয়? আহুর মাজদা বললেন- তার পাপ, তার নবম উত্তর পুরুষ পর্যন্ত দায়ী করে, ছয়শত বৎসরের প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
৭. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি ভেড়া-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার পাপের সাথে কতোজন জড়িত হয়? আহুর মাজদা বললেন- তার পাপ, তার নবম উত্তর পুরুষ পর্যন্ত দায়ী করে, সাতশত বৎসরের প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
৮. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি ষাড়-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার পাপের সাথে কতোজন জড়িত হয়? আহুর মাজদা বললেন- তার পাপ, তার নবম উত্তর পুরুষ পর্যন্ত দায়ী করে, আটশত বৎসরের প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
৯. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি মানুষ-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার পাপের সাথে কতোজন জড়িত হয়? আহুর মাজদা বললেন- তার পাপ, তার নবম উত্তর পুরুষ পর্যন্ত দায়ী করে, নয়শত বৎসরের প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
১০. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি জমি-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার পাপের সাথে কতোজন জড়িত হয়? আহুর মাজদা বললেন- তার পাপ, তার নবম উত্তর পুরুষ পর্যন্ত দায়ী করে, এক হাজার বৎসরের প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
অংশ ২ঘ
১১. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি মৌখিক চুক্তি ভঙ্গ করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে তিনশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে তিনশত চাবুকের বাড়ি।
১২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি লিখিত চুক্তি ভঙ্গ করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে ছয়শত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে ছয়শত চাবুকের বাড়ি।
১৩. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি ভেড়া-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সাতশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সাতশত চাবুকের বাড়ি।
১৪. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি ষাড়-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে আটশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে আটশত চাবুকের বাড়ি।
১৫. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি মানুষ-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নয়শত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নয়শত চাবুকের বাড়ি।
১৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি জমি-সমমূল্যের চুক্তি ভঙ্গ করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে এক হাজার চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে এক হাজার চাবুকের বাড়ি।
অংশ ৩ক
১৭. যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করতে উদ্যত হয়, তবে সে একজন আগেরেপ্তা। যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করতে এগিয়ে যায়, তবে সে একজন আভাও-ইরিস্তা। যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আঘাত করে, তবে সে একজন আরেদুশ। পরপর পাঁচ বার আরেদুশে দুষ্ট হলে, সে একজন পেশোয়তানু।
১৮. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি আগেরেপ্তায় দুষ্ট হয়, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পাঁচ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পাঁচ চাবুকের বাড়ি। দ্বিতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দশ চাবুকের বাড়ি। তৃতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পনের চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পনের চাবুকের বাড়ি।
১৯. চতুর্থ বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি। পঞ্চম বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি। ষষ্ঠ বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে ষাট চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে ষাট চাবুকের বাড়ি। সপ্তম বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
২০. যদি কোনো ব্যক্তি, অষ্টম বারের মতো আগেরেপ্তায় দুষ্ট হয়, পূর্ববর্তী আগেরেপ্তাগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
২১. যদি কোনো ব্যক্তি, আগেরেপ্তায় দুষ্ট হয় এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
২২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি আভাও-ইরিস্তায় দুষ্ট হয়, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দশ চাবুকের বাড়ি। দ্বিতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পনের চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পনের চাবুকের বাড়ি।
২৩. তৃতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি। চতুর্থ বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি। পঞ্চম বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি। ষষ্ঠ বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
২৪. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, সপ্তম বারের মতো আভাও-ইরিস্তায় দুষ্ট হয়, পূর্ববর্তী আভাও-ইরিস্তাগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
২৫. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, আভাও-ইরিস্তায় দুষ্ট হয় এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
২৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি আরেদুশে দুষ্ট হয়, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পনের চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পনের চাবুকের বাড়ি।
২৭. দ্বিতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি। তৃতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি। চতুর্থ বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি। পঞ্চম বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
২৮. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, ষষ্ঠ বারের মতো আরেদুশে দুষ্ট হয়, পূর্ববর্তী আরেদুশগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
২৯. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, আরেদুশে দুষ্ট হয় এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৩০. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রনাপূর্ণ আঘাত করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত?
৩১. আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে ত্রিশ চাবুকের বাড়ি। দ্বিতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি। তৃতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি। চতুর্থ বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
৩২. যদি কোনো ব্যক্তি, পঞ্চম বারের মতো এই ঘটনা ঘটায়, পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৩৩. যদি কোনো ব্যক্তি, এই ঘটনা ঘটায় এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৩৪. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে রক্ত বের করার জন্য আঘাত করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পঞ্চাশ চাবুকের বাড়ি। দ্বিতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি। তৃতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
৩৫. যদি কোনো ব্যক্তি, চতুর্থ বারের মতো এই ঘটনা ঘটায়, পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৩৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে রক্ত বের করার জন্য আঘাত করে এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৩৭. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে হাড় ভাঙার জন্য আঘাত করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সত্তর চাবুকের বাড়ি। দ্বিতীয় বারের সময়, আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
৩৮. যদি কোনো ব্যক্তি, তৃতীয় বারের মতো এই ঘটনা ঘটায়, পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৩৯. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে হাড় ভাঙার জন্য আঘাত করে এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৪০. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য আঘাত করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে নব্বই চাবুকের বাড়ি।
৪১. যদি কোনো ব্যক্তি, এই ঘটনা ঘটায়, পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর জন্য প্রায়শ্চিত্ত না করেই, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৪২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, অপর কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য আঘাত করে এবং প্রায়শ্চিত্ত করতে অগ্রাহ্য করে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- সে একজন পেশোয়তানু। আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে দুইশত চাবুকের বাড়ি।
৪৩. এবং তারা সেই সময় থেকে শুরু করে হাটতে পারবে, পবিত্রতার রাস্তার উপরে, পবিত্রতার বাক্যের উপরে এবং পবিত্রতার আদেশের উপরে।
অংশ ২ঙ
৪৪. যদি একই বিশ্বাষের ব্যক্তিরা, বন্ধুই হোক কিংবা ভাই, পরস্পর কোনো চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়, যে একজন অপরজনকে প্রদান করবে; কোনো বস্তু অথবা স্ত্রীলোক, অথবা জ্ঞান; যার বস্তু নেয়ার কথা, তাকে তার বস্তু নিতে দাও। যার স্ত্রীলোক নেয়ার কথা, তাকে তার প্রতিশ্রুত স্ত্রীলোকের সাথে বিয়ে দাও। যার জ্ঞান নেয়ার কথা, তাকে পবিত্র বাক্য সহ জ্ঞান শিক্ষা দাও।
৪৫. সে শিক্ষা গ্রহন করবে, দিনের প্রথম অংশ থেকে শুরু করে শেষ অংশ পর্যন্ত, রাতের প্রথম অংশ থেকে শুরু করে শেষ অংশ পর্যন্ত, যেনো তার মন জ্ঞানে পূর্ণ হয় এবং তার পবিত্রতার আলোকিত অংশ শক্তিশালী হয়। সুতরাং সে মাথা নত করবে, ধন্যবাদ দিবে এবং দেবতাদের নিকট প্রার্থনা করবে; যেনো তার জ্ঞান আরো বৃদ্ধি পায়। সে বিশ্রাম নিবে, দিনের মধ্যবর্তী অংশে এবং রাতের মধ্যবর্তী অংশে, এবং সেটা সে অব্যহত রাখবে, যতোক্ষণ না পর্যন্ত সে সমস্তই বলতে পারবে, যেমনটা তার শিক্ষক তাকে শিখিয়েছেন।
অংশ ৩খ
৪৬. শপথ জলের এবং আগুনের আলোকচ্ছটার, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র; যদি কেউ তার প্রতিবেশীর নিকট থেকে পশু বা পোষাক চুরি করে থাকে, তাহলে তাকে তা অস্বীকার করতে পারার মতো সাহসী হতে দিও না।
৪৭. বস্তুত, আমি তোমাকে বলি, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র; যে ব্যক্তির স্ত্রী আছে সে, যে নিঃসন্তান তার নিকট থেকে দূরবর্তী। যে ব্যক্তির বাড়ি আছে সে, যে গৃহহীন তার নিকট থেকে দূরবর্তী। যে ব্যক্তির সন্তান আছে সে, যে নিঃসন্তান তার নিকট থেকে দূরবর্তী। যে ব্যক্তি ধনী সে, যার সম্পদ নেই তার নিকট থেকে দূরবর্তী।
৪৮. এবং দুই ব্যক্তির মধ্যে, সে নিজেকে মাংসে পূর্ণ করে, যে নিজেকে বহুমান্যের শুভসত্ত্বায় পূর্ণ করে। তার চেয়ে বেশি, যে করে না। বর্তমানই সব, কিন্তু তা মৃত। পূর্ববর্তীজন এগিয়ে থাকে, এক আসপারেনার মূল্যের সমপরিমান, একটি ভেড়ার মূল্যের সমপরিমান, একটি ষাড়ের মূল্যের সমপরিমান, একজন মানুষের মূল্যের সমপরিমান।
৪৯. এটি সেই ব্যক্তি, যে সংগ্রাম করে অস্ত-বিধৌতের আক্রমনের বিরুদ্ধে। যে সংগ্রাম করে ইশুস-হ্থাখতোর আক্রমনের বিরুদ্ধে। যে সংগ্রাম করে শীতের অশুভ শক্তিদের বিরুদ্ধে, পাতলা কাপড় পরিধান করে। যে সংগ্রাম করে অসৎ প্রজাপীড়ক শাসকের বিরুদ্ধে এবং আঘাত করে তার মাথায়। এটি সেই ব্যক্তি, যে সংগ্রাম করে অ-ঐশ্বরিক আশেমৌঘার বিরুদ্ধে, যে কখনোই খাদ্যগ্রহণ করে না।
(সংযুক্ত) ... প্রথম যখন কেউ শপথ ভঙ্গ করে, তার জন্য শাস্তি নির্ধারিত হয়ে যায়, দ্বিতীয়বার এই কাজ করার জন্য অপেক্ষা করার পূর্বেই।
৫০. সেখানে, নরকে, এই কাজের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত, তা পৃথিবীর যে কোনো শাস্তির চেয়ে বহুগুণে কঠিন। সেখানে পিতলের ছুরি দ্বারা, তার নশ্বর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হবে। তখন সেটা আরো অধিক খারাপ হবে, হবে না?
৫১. সেখানে, নরকে, এই কাজের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত, তা পৃথিবীর যে কোনো শাস্তির চেয়ে বহুগুণে কঠিন। সেখানে পিতলের পেরেক তার নশ্বর শরীরের নখের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হবে। তখন সেটা আরো অধিক খারাপ হবে, হবে না?
৫২. সেখানে, নরকে, এই কাজের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত, তা পৃথিবীর যে কোনো শাস্তির চেয়ে বহুগুণে কঠিন। সেখানে তার নশ্বর শরীরকে, মাথা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে জোরপূর্বক ফেলে দেয়া হবে, একশত মানুষের সমান উঁচু এমন স্থান থেকে। তখন সেটা আরো অধিক খারাপ হবে, হবে না?
৫৩. সেখানে, নরকে, এই কাজের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত, তা পৃথিবীর যে কোনো শাস্তির চেয়ে বহুগুণে কঠিন। সেখানে তার নশ্বর শরীরকে, জোরপূর্বক শূলে চড়ানো হবে। তখন সেটা আরো অধিক খারাপ হবে, হবে না?
৫৪. সেখানে, নরকে, এই কাজের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত, তা পৃথিবীর যে কোনো শাস্তির চেয়ে বহুগুণে কঠিন। তাকে শাস্তি দেয়া হবে- যে শপথ ভঙ্গ হয়ে গেছে, সে শপথ ভঙ্গ নিয়ে রসিকতা করার জন্য। যে ব্যক্তি জ্ঞাতসারে মিথ্যা বলে, তাকে সম্মুখীন করা হবে, রাশ্নুর সামনে; উপচে পরা সোনালী পাথর এবং সত্যজ্ঞ জলের সাথে। তাকে শাস্তি দেয়া হবে- মিথ্রার সাথে মিথ্যা বলার জন্য।
৫৫. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কেউ জ্ঞাতসারে মিথ্যা বলে, যাকে সম্মুখীন করা হলো, রাশ্নুর সামনে; উপচে পরা সোনালী পাথর এবং সত্যজ্ঞ জলের সাথে; এবং যে মিথ্যা বললো, মিথ্রার সাথে; তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে সাতশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে সাতশত চাবুকের বাড়ি।
[পাদটীকা সংযুক্তি
পদ ৪৮... বহুমান্য... শুভচিন্তার দেবতা, গবাদিপশুর প্রতিপালক।
পদ ৪৮... আসপারেনা... দিরহাম।
পদ ৪৯... অস্ত-বিধৌত... অস্থিচূর্ণকারী, অশুভ দেবতা। প্রত্যেকটি জীবিত প্রাণীর ঘাড়ে যে মৃত্যুর ফাঁস পরিয়ে রাখে।
পদ ৪৯... ইশুস-হ্থাখতো... মৃত্যুর স্বতশ্চল শর।
পদ ৪৯... আশেমৌঘা... মানুষের শুভচিন্তায় বিশৃঙ্খলা ঘটায় যে অশুভ দেবতা।
পদ ৫৪... রাশ্নু... সত্যের দেবতা।
পদ ৫৪... মিথ্রা... স্বর্গীয় আলোর দেবতা। ঈশ্বর আহুর মাজদার প্রধান সহকারী দেবতা।]

পবিত্র জেন্দাবেস্তা- প্রথম খন্ড ভেন্দিদাদ- তৃতীয় অধ্যায়



ফারগার্দ ৩

পৃথিবী
অংশ ১
১. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সুখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে একজন বিশ্বাষী সামনে এগিয়ে যায়। হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, সে তার সাথে রাখে পবিত্র কাঠ, সে তার সাথে রাখে বারেশ্মা, সে তার সাথে রাখে পবিত্র মাংস, সে তার সাথে রাখে পবিত্র হামানদিস্তা। সে ভালোবাসার সাথে মান্য করে বিধান, এবং এমনভাবে প্রার্থনা করে, যা দুর থেকেও শোনা যায়; মিথ্রার নিকটে, যিনি মহান মেষপালকদের প্রভু এবং রামা হ্বস্ত্রার নিকটে।
২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সুখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে একজন বিশ্বাষী প্রতিষ্ঠা করে তার ঘর, যেখানে পুরোহিতদের প্রবেশাধিকার থাকে। যেখানে অবস্থান করে তার গবাদিপশু, তার স্ত্রী, তার সন্তানেরা এবং তার গবাদিপশুর পাল।
৩. এবং তারপর সেখানে তার গবাদিপশু সমৃদ্ধি লাভ করে, পবিত্রতা সমৃদ্ধি লাভ করে, গবাদিপশুর খাদ্য সমৃদ্ধি লাভ করে, কুকুর সমৃদ্ধি লাভ করে, স্ত্রী সমৃদ্ধি লাভ করে, সন্তানেরা সমৃদ্ধি লাভ করে, আগুন সমৃদ্ধি লাভ করে এবং জীবনের প্রত্যেকটি অনুগ্রহ সমৃদ্ধি লাভ করে।
৪. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে তৃতীয় সর্বোচ্চ সুখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে একজন বিশ্বাষী চাষাবাদ করে শষ্য, ঘাস এবং ফলাদি। হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, আমি শুষ্ক জমিকে করি আর্দ্র এবং আর্দ্র জমিকে করি শুষ্ক।
৫. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে চতুর্থ সর্বোচ্চ সুখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, পশু এবং পাখিদের দল-পাল এবং ঝাঁক।
৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে পঞ্চম সর্বোচ্চ সুখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে পশু এবং পাখিদের দল-পাল এবং ঝাঁকেরা, নিষ্কাশন করে তাদের বর্জ্য।
অংশ ২
৭. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে সর্বোচ্চ যন্ত্রনাপূর্ণ দুঃখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- আরেজুরার ঘাড় হচ্ছে সে স্থান, যে নরকের গর্ত থেকে অগণিত শয়তান বেপরোয়া ভাবে অগ্রধাবন করে।
৮. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যন্ত্রনাপূর্ণ দুঃখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে কুকুরের এবং মানুষের মৃতদেহকে সমাহিত করা হয়।
৯. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে তৃতীয় সর্বোচ্চ যন্ত্রনাপূর্ণ দুঃখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে বেশিরভাগ দাখমা দাড়িয়ে থাকে, যেখানে মানুষের মৃতদেহ জমিয়ে রাখা হয়।
১০. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে চতুর্থ সর্বোচ্চ যন্ত্রনাপূর্ণ দুঃখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে গর্তে বসবাস করে আহরি মানের বেশিরভাগ সৃষ্টি।
১১. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে পঞ্চম সর্বোচ্চ যন্ত্রনাপূর্ণ দুঃখের স্থান কোথায়? আহুর মাজদা বললেন- সে স্থানে, যেখানে শত্রুর হাতে বিশ্বাষীরা নিহত হয়। এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানদের পশুর পালের মতো আঘাত করে করে তাড়িয়ে নেয়া হয়। হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, তাদের বন্দী করা হয়, শুষ্ক এবং ধূলিমলিন পথে তারা চিৎকার করে বিলাপ করে ওঠে।
অংশ ৩
১২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে সর্বোচ্চ আনন্দে আনন্দিত কে? আহুর মাজদা বললেন- সে ব্যক্তি, যে মাটি খুঁড়ে বের করে, কুকুর এবং মানুষের মৃতদেহ।
১৩. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আনন্দে আনন্দিত কে? আহুর মাজদা বললেন- সে ব্যক্তি, যে ধ্বংস করে বেশিরভাগ দাখমা, যেখানে মানুষের মৃতদেহ জমিয়ে রাখা হয়।
১৪. একলা কাউকে একটি মৃতদেহ বহন করার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি কেউ একলা একটি মৃতদেহ বহন করে, তবে নাসু, তাকে দূষিত করতে, বেপরোয়া ভাবে অগ্রধাবন করে; মৃতের নাক থেকে, চোখ থেকে, জিহ্বা থেকে, চোয়াল থেকে, যৌনাঙ্গ থেকে এবং অন্যান্য প্রত্যঙ্গ থেকে। এই নরক, এই নাসু, তার উপর পতিত হয়, তাকে বিবর্ণ করতে, এমনকি শেষ নখটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত। এবং সে অপবিত্র থাকে সেই সময় থেকে শুরু করে, সবসময়ের এবং সবসময়ের জন্য।
১৫. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যে কেউ একলা একটি মৃতদেহ বহন করলো, তার স্থান কোথায় হবে? আহুর মাজদা বললেন- তার স্থান হবে এই পৃথিবীতে, যেখানে থাকবে সামান্য জল এবং সামান্যতম গাছপালা। যেখানে ভূমি হবে পরিষ্কার এবং শুষ্ক; এবং সেখানে খুব কম যাবে পশু এবং পাখিদের দল, পাল এবং ঝাঁক। এবং কম যাবে আহুর মাজদার সন্তান- আগুন, কম যাবে উৎসর্গীকৃত বারেশ্মাগুচ্ছ এবং কম যাবে বিশ্বাষীরা।
১৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; আগুন থেকে কতো দূরে? জল থেকে কতো দূরে? উৎসর্গীকৃত বারেশ্মাগুচ্ছ থেকে কতো দূরে? বিশ্বাষীদের কাছ থেকে কতো দূরে?
১৭. আহুর মাজদা বললেন- আগুন থেকে ত্রিশ পদক্ষেপ দূরে, জল থেকে ত্রিশ পদক্ষেপ দূরে, উৎসর্গীকৃত বারেশ্মাগুচ্ছ থেকে ত্রিশ পদক্ষেপ দূরে, বিশ্বাষীদের কাছ থেকে তিন পদক্ষেপ দূরে।
১৮. সে স্থানে, মাজদার পূজারীরা অপবিত্রদের জন্য নির্মান করবে, আর্মেশ্ত-গাহ। এবং সেখানে তাদেরকে রাখা হবে, খাবার সহ; সেখানে তাদেরকে রাখা হবে, কাপড় সহ। তাদের খাবার হবে অতি সাধারন এবং কাপড় হবে ব্যবহারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত।
১৯. ঔ খাবার তাদের দেয়া হবে, যেনো তারা বেঁচে থাকে এবং ঔ কাপড় তাদের দেয়া হবে, যেনো তারা বেঁচে থাকে। যেনো তারা বেঁচে থাকে পঞ্চাশ, ষাট বা সত্তর বৎসর পর্যন্ত।
২০. এবং যখন তার বয়স হবে পঞ্চাশ, ষাট বা সত্তর বৎসর, তখন আহুর মাজদার পূজারীরা একজন শক্তিশালী, তেজস্বী এবং দক্ষ লোককে আদেশ দিবেন, যেনো তার শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানো হয় এবং তার ধর থেকে মস্তক আলাদা করা হয়।
২১. এবং পর্বতের শীর্ষদেশ থেকে, তারা তার মৃতদেহ প্রদান করবে, আহুর মাজদার সৃষ্টি, শবখোর প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে লোভী, লোভী দাঁড়কাককে। এবং বলতে থাকবে এই বাক্য- ‘এই ব্যক্তি এখানে অনুতপ্ত। তার সমস্ত অসৎ চিন্তা, বাক্য এবং চুক্তির জন্য। যদি তার আর কোনো অসৎ চিন্তা থেকে থাকে, তাহলে তাকে তার অনুশোচনার জন্য ক্ষমা করা হোক। যদি তার আর কোনো অসৎ চিন্তা না থেকে থাকে, তাহলে তাকে তার পাপ থেকে মুক্তি দেয়া হোক। সবসময়ের এবং সবসময়ের জন্য।’
২২. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবী তৃতীয় সর্বোচ্চ আনন্দে আনন্দিত কে? আহুর মাজদা বললেন- সে ব্যক্তি, যে অতিক্রম করতে পারে, আহরি মানের সৃষ্ট ফাঁদ।
২৩. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে চতুর্থ সর্বোচ্চ আনন্দে আনন্দিত কে? আহুর মাজদা বললেন- সে ব্যক্তি, যে চাষ করে শষ্য, ঘাস এবং ফল। হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, আমি শুষ্ক ভূমিকে করি জলে সিক্ত এবং সিক্ত ভূমিকে করি শুষ্ক।
২৪. ভূমি অসুখী থাকে, যখন সে পতিত থাকে, বপনকারীর অভাবে। এবং সে আশা করে একজন কৃষক। একজন যৌবনবতী সন্তানহীন তরুণীর মতো, যেমন সে আশা করে স্বামী।
২৫. যে ব্যক্তি, পৃথিবীকে চাষ করে, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, তার ডান ও বাম বাহু দ্বারা, তার বাম ও ডান বাহু দ্বারা; সে এমনভাবে তাকে চাষযোগ্য করে তোলে, যেমন তার বিছানায় অবস্থান করছে তার প্রিয়তমা। এবং প্রিয়তমা যেমন সন্তান প্রদানের জন্য উৎসুক হয়ে থাকে, তেমনি সেও দিতে চায় ফলফলাদি।
২৬. যে ব্যক্তি, পৃথিবীকে চাষ করে, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, তার ডান ও বাম বাহু দ্বারা, তার বাম ও ডান বাহু দ্বারা;
২৭. তার প্রতি পৃথিবী বলে- হে মানুষ, যে আমাকে চাষ করে, ডান ও বাম বাহু দ্বারা, বাম ও ডান বাহু দ্বারা, যে আমার কাছে আসে এবং রুটি চেয়ে নেয়, আমি তার দ্বায়িত্ব নিই এবং তাকে সবসময় খাবার যোগান দেই এবং তাতে আমার শষ্যের প্রাচুর্য প্রকাশিত হয়।
২৮. যে ব্যক্তি, পৃথিবীকে চাষ করে না, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, তার ডান ও বাম বাহু দ্বারা, তার বাম ও ডান বাহু দ্বারা;
২৯. তার প্রতি পৃথিবী বলে- হে মানুষ, যে আমাকে চাষ করে না, ডান ও বাম বাহু দ্বারা, বাম ও ডান বাহু দ্বারা, যে আমার কাছে আসে আগন্তুকের মতো এবং রুটি চেয়ে নিতে চায়, আমি তাকে ফেরত পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্থ হই না। এবং তাকে ফেরত পাঠাই, সম্পদের প্রাচুর্য আছে এমন কারো কাছে।
৩০. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; খাবারের ব্যাপারে আহুর মাজদার আইন কোনটি? আহুর মাজদা বললেন- সেটি হচ্ছে, জমিতে শষ্যের বীজ বপন করা, বারবার এবং বারবার, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র।
৩১. সে, যে বপন করে শষ্য, বপন করে পবিত্রতা। সে আহুর মাজদার আইনকে উচ্চতাসহ বৃদ্ধি করে। সে আহুর মাজদার আইনকে শক্তিশালী করে, যেমন শক্তিশালী হয়, শত আরাধনায়, সহস্র নৈবেদ্যে এবং অযুত উৎসর্গে।
৩২. যখন শষ্য বপন করা হয়, অশুভ শক্তিরা সতর্ক হয়। যখন শষ্যেরা গজিয়ে ওঠে, অশুভ শক্তিদের হৃদয় দুর্বল হতে থাকে। যখন শষ্যেরা পূর্ণাঙ্গ হয়, অশুভ শক্তিরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তারা সে বাড়িতে অবস্থান করেনা, তারা বিতাড়িত হয়, যে বাড়িতে শষ্যের গোলা থাকে। এটি যেনো লাল গরম লোহা, তাদের গলায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়, যেখানে শষ্যের চাষাবাদ হয়।
৩৩. তখন পূজারীরা লোকেদের বলবে, এই পবিত্র বাক্য- ‘খাদ্যগ্রহন করা ছাড়া, কেউ শক্তি পায় না; পবিত্রতার কাজের জন্য, চাষাবাদের জন্য এবং সন্তান গ্রহনের জন্য। খাদ্যগ্রহনের পর, প্রত্যেক বস্তুগত সৃষ্টি বেঁচে থাকে, খাদ্যগ্রহন না করলে তারা মৃত্যুবরন করে।’
৩৪. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; পৃথিবীতে পঞ্চম সর্বোচ্চ আনন্দে আনন্দিত কে? আহুর মাজদা বললেন- সে ব্যক্তি, যে চাষ করে পৃথিবী। হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, এবং সেখান থেকে সে দান করে বিশ্বাষীদের, দয়া সহ এবং সততা সহ।
৩৫. যে চাষ করে পৃথিবী, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, এবং সেখান থেকে সে দান করে না বিশ্বাষীদের, দয়া সহ এবং সততা সহ; নিশ্চয় পতিত হবে, পৃথিবীর গভীরে অন্ধকারে। পতিত হবে গভীর দুঃখ এবং শোকের জগতে, যেটি চিরবিষন্ন এলাকা। এবং নিশ্চয় সে পতিত হবে, তার নরকের বাড়িতে।
অংশ ৪
৩৬. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, মাটিতে সমাহিত করে, কুকুরের মৃতদেহ অথবা মানুষের মৃতদেহ, এবং সে যদি তা অর্ধ-বৎসরের মধ্যে মাটি থেকে না তোলে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে পাঁচশত চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে পাঁচশত চাবুকের বাড়ি।
৩৭. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, মাটিতে সমাহিত করে, কুকুরের মৃতদেহ অথবা মানুষের মৃতদেহ, এবং সে যদি তা এক বৎসরের মধ্যে মাটি থেকে না তোলে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? আহুর মাজদা বললেন- আস্পাহে-অস্ত্রের মাধ্যমে এক হাজার চাবুকের বাড়ি এবং স্রাওশা-করনের মাধ্যমে এক হাজার চাবুকের বাড়ি।
৩৮. হে মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা, হে পবিত্রজন; যদি কোনো ব্যক্তি, মাটিতে সমাহিত করে, কুকুরের মৃতদেহ অথবা মানুষের মৃতদেহ, এবং সে যদি তা দুই বৎসরের মধ্যে মাটি থেকে না তোলে, তার জন্য কি শাস্তি নির্ধারিত? তার জন্য কি প্রায়শ্চিত্ত নির্ধারিত? এটা থেকে বিশোধিত হওয়ার প্রক্রিয়া কি?
৩৯. আহুর মাজদা বললেন- তার জন্য এমন কিছু নেই, যাতে তা পূরন হতে পারে। তার জন্য কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। এটা থেকে বিশোধিত হওয়ার কোনো প্রক্রিয়াও নেই। এটা এমন একটি পাপ, যার কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই, সবসময়ের জন্য এবং সবসময়ের জন্য।
৪০. কখন এরকমটা হবে? -এরকম হবে তখন, যখন পাপী, আহুর মাজদার আইনের কোনো শিক্ষক, অথবা তা শিক্ষা পেয়েছে, এমন কেউ এরকমটা করবে। কিন্তু যদি সে আহুর মাজদার আইনের শিক্ষক না হয় অথবা এমন কেউ, যে সেই শিক্ষা পায় নি, আহুর মাজদার আইন তার কাছ থেকে সেই পাপ নিয়ে নিবে। যদি সে পাপ স্বীকার করে, পাপ না করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পাপ থেকে নিজেকে নিষিদ্ধ মনে করে।
৪১. বস্তুত, হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, আহুর মাজদার আইন হচ্ছে, যে তার ঘটে যাওয়া সমস্ত পাপ স্বীকার করে; তাকে তার পাপ থেকে সরিয়ে নেয়া, তার পাপ লাঘব করা। তার বিশ্বাষভঙ্গের পাপ লাঘব করা হয়, তার বিশ্বাষীদের হত্যা করার পাপ লাঘব করা হয়, তার মৃতদেহ সমাহিত করার পাপ লাঘব করা হয়। লাঘব করা হয় এমন সব পাপ, যার কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। লাঘব করা হয় সব সর্বোচ্চ শাস্তির পাপ। লাঘব করা হয় এমন সব পাপ, যা পাপ হতে পারতো।
৪২. হে স্পিতামা জরথুস্ত্র, একই সাথে আহুর মাজদার আইন বিশ্বাষীদের বিশোধন করে, সমস্ত অসৎ চিন্তা, বাক্য এবং চুক্তি থেকে। যেমন করে দ্রুতগামী পরাক্রমশালী বাতাস বিশোধন করে থাকে সমতলভূমি। সুতরাং সমস্ত চুক্তি হোক. ভবিষ্যৎ মঙ্গলের জন্য এবং আহুর মাজদার আইনে যা পাপ, হে জরথুস্ত্র, তা থেকে পূর্ণ প্রায়শ্চিত্তের জন্য।
[পাদটীকা সংযুক্তি
পদ ১... বারেশ্মা... ডালিম, খেজুর বা তেঁতুল গাছের পাতাসহ কচি ডালের গুচ্ছ।
পদ ১... রামা হ্বস্ত্রা... গবাদীপশুদের উত্তম পালক প্রদানকারী দেবতা।
পদ ৭... আরেজুরার ঘাড়... নরকের প্রবেশপথের পাহাড়ের উপত্যকা। আহরি মানের সমস্ত মন্দসৃষ্টির জন্মস্থান।
পদ ৯... দাখমা... মৌনস্তম্ভ। পারসিক ধর্মমতে যেখানে মানুষের মৃতদেহ অন্যান্য মাংসাশী জীবদের জন্য জমিয়ে রাখা হয়।
পদ ১৪... নাসু... মৃতদেহকে দূষিত করার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত অশুভ দেবতা।
পদ ৩৬... আস্পাহে-অস্ত্র... ঘোড়ার লেজ থেকে প্রস্তুত চাবুক।
পদ ৩৬... স্রাওশা-করন... তিনটি আস্পাহে-অস্ত্রের সমন্বয়ে প্রস্তুত চাবুক।
পদ ৪২... বিশ্বাষী... অর্থাৎ পারসিক ধর্মে বিশ্বাষী, আহুর মাজদার আইনে বিশ্বাষী, জরথুস্ত্রের আইনে বিশ্বাষী।]