গতকাল আলাপে দুর্নীতির কথা বলেছিলাম। আজকে তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ হিসাবে সামনে চইলা আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের চিত্র। একটা বালিশ কিনতে তারা খরচ করছেন ৫,৯৫৭ টাকা আর সেটা উপরে উঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা। ইলেকট্রিক আয়রনের দাম বালিশের চে কম, মাত্র ৪,১৫৪ টাকা। কিন্তু ভারী বিধায় উপরে তুলতে একটু বেশি খরচ হয়ছে, মাত্র ২,৯৪৫ টাকা। জনগণের টাকার কি নিদারুণ অপচয়। কারন তারা জানে এর ফল কি হবে? খবর লিক হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হালকা হইচই হবে, একটা তদন্ত কমিটি হবে। আগামীকাল আরেক জায়গার দুর্নীতির খবরে এইটা লোকেরা ভুলে যাবে। জবাবদিহিতার কোন জায়গা নাই। জবাবদিহিতার জায়গা তৈরী করাটাই সুশাসনের পূর্বশর্ত।
দেশে সুশাসন আছে কিনা এর যে কয়টা লক্ষণ আছে তার প্রায় সবকয়টায় বাংলাদেশ ফেল। কিছু কিছু জায়গায় প্রশ্নপত্র পাইয়া পাশ। লক্ষণগুলা কি কি? ১. প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা, একদমই নাই। যা মন চায় তাই। কিসের স্বচ্ছতা, কি বিষয়ে স্বচ্ছতা! পাবলিক সার্ভেন্টরা স্বচ্ছতা কাকে বলে এইটা জানে কিনা তাও জানিনা। যদিও পাবলিক সার্ভেন্ট বলে কিন্তু সামনাসামনি স্যার বলতে হয়। এইটাই স্বচ্ছতা কিনা কে জানে? এ প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন- ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন অসম্ভব নহে, তবে কঠিন, জানলে খুবই সহজ।’
এরপরই জবাবদিহিতা। কার কাছে জবাবদিহিতা? কেন জবাবদিহিতা? জনগণের কাছে জবাব দিতে যে পাবলিক সার্ভেন্টরা বাধ্য, যতোবার প্রশ্ন করা হবে ততবার জবাব দিতে বাধ্য, যতক্ষণ বিষয়টা পরিষ্কার না হচ্ছে, ততক্ষন জবাব দিতে বাধ্য, এইটা তাদের কে বোঝাবে? যতদিন এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হচ্ছে ততদিন দেশে দুর্নীতি ঠেকানো যাবে না। দুর্নীতি ঠেকানোর একটা অস্ত্র হচ্ছে জবাব দিতে বাধ্য করা। জবাবদিহিতার একটা উদাহরণ তৈরী করা গেলেই অন্তত ২-৩ মাস দুর্নীতি কম হবে। আরেকটা উদাহরণ তৈরী করলে এই ডিউরেশনটা বাড়বে। দুর্নীতি হয়ত বিলুপ্ত হবে না। তবে কমবে, সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতি হবে।
এরপর প্রশাসনিক দক্ষতা। প্রশাসনিক দক্ষতায় বাংলাদেশের সরকার পাবে ১০০ তে ১০-১৫। এইভাবে সুশাসনের প্রত্যেকটায় বাংলাদেশের প্রশাসন কার্যত অকার্যকর। আরেকটা বড় লক্ষণ আইনের শাসন। আইনের শাসনকে আধুনিক মানুষের সমাজে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। আইনের শাসনতো বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়। অনেক আগেই বাংলাদেশ থেকে আইনের শাসন বিলুপ্ত হয়েছে, অথবা কোনোদিন বাংলাদেশে আইনের শাসন ছিলোই না। আইন অন্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের আইন চোখ খুইলা দেখে কার কাছে টাকা আছে, অপরাধী এম্পির ছেলে কিনা, ছেলে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন বা শ্রমিক, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন করে কিনা। অথবা আইনে কোনো ফাঁকফোকর আছে কিনা যেটা দিয়ে তারে নির্দোষ প্রমান করা যায়, অথবা জামিনে বের কইরা আইনা বিদেশ পাঠায়া দেয়া যায়।
যাই হোক, দুর্নীতি আর সুশাসন একসাথে চলেনা। দেশে যথেষ্ট পরিমান দুর্নীতি আছে, আবার বলবেন সুশাসনের জোয়ারে দেশ ভাইসা যাইতে আর দুই দিন বাকি। হবে না। প্রশাসন না হইলেও মানুষের চলতো। তাও প্রশাসন আছে, কেন? মানুষকে শাসন করার জন্য! এই ধারনা অনেক আগেই বিলুপ্ত হইছে। সেই সুদূর ঐতিহাসিক ইম্পেরিয়াল আর কলোনিয়াল যুগে প্রশাসনের কাজ ছিলো শাসন করা। এখন প্রশাসনের কাজ মানুষের সেবা করা। সেবার জন্য লোকাল গভমেন্ট, মিউনিসিপিলিটি, থানা, দপ্তর, অধিদপ্তর, বিভিন্ন রকম সরকারী-আধাসরকারী অফিস ইত্যাদি। তাদের কাজ মানুষের কাজকে সহজ করা। তাদের কাজ মানুষের যা দরকার তা হাতের কাছে নিয়া আসা। কেউ বিদেশ যাইতে চায়, পাসপোর্ট অফিসের কাজ তার কাছে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়া তারে পাসপোর্ট যত দ্রুত সম্ভব দিয়ে দেয়া। কেউ উদ্যোক্তা হইতে চায়, তারে যুব অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিয়া, ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়া উদ্যোগ শুরু করতে সাহায্য করা।
আচ্ছা প্রশাসন চলে কেমনে? টাকা কই পায়? টাকা ত সাধারন মানুষের টাকা। একজন এম্পির বেতন কতো? তার ট্যাক্স কতো কাটে? এইযে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এতো বিদেশ যায় ট্রেনিং নিতে, মাসে এতো টাকা বেতন-ভাতা পায়, তার উপর চুরি করে, কার টাকা? যে বেকার যুবক বন্ধুর কাছ থেকে ঋণ নিয়া একটা সিগারেট খায়, সেই সিগারেটের টাকার ভ্যাট-ট্যাক্সে তাদের বেতন হয়। যে পতিতা মাসে একবার লাক্স সাবান কিনে, সেই সাবানের ভ্যাট-ট্যাক্সে আসে বিদেশভ্রমণ। যে রিক্সাচালক রোজার মাসে বাচ্চাদের জন্য একপোয়া খেজুর কিনে, সেই ইম্পোর্টেট খেজুরের ভ্যাট-ট্যাক্সে চলে আপনাদের অফিসের বিদ্যুবিল।
তাহলে সে প্রশাসন যদি সেবা দিতে না পারে, কি করা উচিত? সেবা আদায় করে নেয়া উচিত। দিবেন না কেন, দিতে হবে। করবেন না কেন, করতে হবে।
সুশাসন প্রশাসন অনেক হইছে। একটা গল্প বলি। হযরত ওমর তখন খলিফা। তার সময়ে মুসলিম সাম্রাজ্য আকারে আয়তনে বেশ বড় হয়। একপাশে মিসর, আরেকপাশে ইরান। ওমর তখন আরেক সাহাবিকে বলছিলেন- ‘যদি ফোরাত নদীর তীরে একটা কুকুরও না খেয়ে মরে, আল্লাহর দরবারে এই ওমরকে জবাব দিতে হবে।’ বাংলাদেশের মানুষতো মানুষ, কুকুর বেড়াল, ডাইনোসররাও উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে।
আল্লাহকে জবাবদিহি করতে চাইলেও আসলে প্রাথমিক জবাবদিহিতাটা তিনি একজন সাহাবীর সামনেই করেছিলেন। এখন না মানুষের সামনে জবাবদিহিতা, না পরকালের জবাবদিহিতার কোনো ভাবনা। এমনকি এই বিষয় নিয়া ন্যূনতম চিন্তাও করে কিনা সন্দেহ। এমনকি আধুনিককালেও আমাদের কয়েকঘর ঐপাশে মালয়েশিয়ায়, প্রধানমন্ত্রী নাজিব বিন রাজ্জাক রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কিছু টাকা সরিয়ে বৌ-ছেলেকে বিদেশে বাড়ি কিনে দেন, বৌকে কাপড়-ব্যাগ-জুতা কিনে দেন। জবাব চাওয়ার জন্য দেশের তরুণ-যুবক-ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে রাস্তায় নামেন ৯২ বছরের বৃদ্ধ মাহাথির বিন মুহাম্মদ। নাজিব জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে হারে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। কারণ টাকাটা জনগণের কষ্টের টাকা।
বাংলাদেশ নিয়ে অনেকে হতাশ। আমি এখনো হতাশ না। আমি জানি দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ আসলেই আগায়া যাবে। দুর্নীতি মিষ্টি কথায় বন্ধ হবে না। দুর্নীতি আসলে করতেছে খুব কম লোক। কিন্তু তারা এমন এমন জায়গায় বসে দুর্নীতি করতেছে যে সেটা সামাল দেয়া মুশকিল। দুর্নীতি হয়ত তাদের বিলাসীতার উৎস, তাদের অন্যতম রুটিরুজি। তো তাদের রুটিরুজি আপনি বন্ধ করে দিবেন, তাদের পেটে লাথি দিবেন, এতো সহজ? একজন রিক্সাওয়ালা এক খ্যাপে কয় টাকা বাড়ায়া দিতে বলে- ৫ টাকা, ১০ টাকা। একজন মুদি দোকানদার খুচরা চালে নিজে কয় টাকা বাড়ায়া বেচে? ২-৩ টাকা। আর শেয়ার বাজার থেকে উধাও হয় কতো কোটি টাকা? ব্যাংক থেকে উধাও হয় কতো কোটি টাকা? আর খেলাপি শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করা হয় কতো কোটি টাকা?
প্রশাসনের যেখানেই অন্যায় দেখা যাবে, অনিয়ম-দুর্নীতি দেখা যাবে সেখানেই জবাব চাইতে হবে। জবাব আবার একলা চাইলে হবে না। একলা জবাব চাইতে গেলে দেখা গেলো ৫৭ ধারা দিয়া বইসা আছে, অথবা পকেটে ইয়াবা দিয়া বললো বদির ছোটো ভাই পাইছি একটা। কয়েকজন মিল্লা চাইতে হবে। কারণ আপনার একার শক্তির চেয়ে অনেকের সম্মিলিত শক্তি, বেশি শক্তিশালী। যারা দেশ নিয়া আশাবাদী তারা ত জবাব চাইবেনই, যারা হতাশ ও বিরক্ত তারা আরো বেশি বেশি চাইবেন। দেশের প্রতি হতাশা ও বিরক্তিকে পরিণত করুন পজিটিভ শক্তিতে। দেশ আগায়া যাবে আপনার ছোট্ট পদক্ষেপে।
অনেক কথা বললাম। কালকে কি হবে জানিনা। ভবিষ্যৎ সর্বদা অনিশ্চিত। কিন্তু আশা রাখতে দোষ কি? আপনার জবাব চাওয়া থেকেই হয়ত শুরু হবে দেশের অগ্রযাত্রা। গৌতম বুদ্ধ বলে গেছেন- ‘লাইফ ইস এ ওয়ান-টাইম অফার, ইউজ ইট ওয়েল’। এই এক জীবনে বসবাসোপযোগী একটা দেশ আশা করা নিশ্চয় আকাশকুসুম কল্পনা না।
দেশে সুশাসন আছে কিনা এর যে কয়টা লক্ষণ আছে তার প্রায় সবকয়টায় বাংলাদেশ ফেল। কিছু কিছু জায়গায় প্রশ্নপত্র পাইয়া পাশ। লক্ষণগুলা কি কি? ১. প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা, একদমই নাই। যা মন চায় তাই। কিসের স্বচ্ছতা, কি বিষয়ে স্বচ্ছতা! পাবলিক সার্ভেন্টরা স্বচ্ছতা কাকে বলে এইটা জানে কিনা তাও জানিনা। যদিও পাবলিক সার্ভেন্ট বলে কিন্তু সামনাসামনি স্যার বলতে হয়। এইটাই স্বচ্ছতা কিনা কে জানে? এ প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন- ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন অসম্ভব নহে, তবে কঠিন, জানলে খুবই সহজ।’
এরপরই জবাবদিহিতা। কার কাছে জবাবদিহিতা? কেন জবাবদিহিতা? জনগণের কাছে জবাব দিতে যে পাবলিক সার্ভেন্টরা বাধ্য, যতোবার প্রশ্ন করা হবে ততবার জবাব দিতে বাধ্য, যতক্ষণ বিষয়টা পরিষ্কার না হচ্ছে, ততক্ষন জবাব দিতে বাধ্য, এইটা তাদের কে বোঝাবে? যতদিন এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হচ্ছে ততদিন দেশে দুর্নীতি ঠেকানো যাবে না। দুর্নীতি ঠেকানোর একটা অস্ত্র হচ্ছে জবাব দিতে বাধ্য করা। জবাবদিহিতার একটা উদাহরণ তৈরী করা গেলেই অন্তত ২-৩ মাস দুর্নীতি কম হবে। আরেকটা উদাহরণ তৈরী করলে এই ডিউরেশনটা বাড়বে। দুর্নীতি হয়ত বিলুপ্ত হবে না। তবে কমবে, সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতি হবে।
এরপর প্রশাসনিক দক্ষতা। প্রশাসনিক দক্ষতায় বাংলাদেশের সরকার পাবে ১০০ তে ১০-১৫। এইভাবে সুশাসনের প্রত্যেকটায় বাংলাদেশের প্রশাসন কার্যত অকার্যকর। আরেকটা বড় লক্ষণ আইনের শাসন। আইনের শাসনকে আধুনিক মানুষের সমাজে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। আইনের শাসনতো বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়। অনেক আগেই বাংলাদেশ থেকে আইনের শাসন বিলুপ্ত হয়েছে, অথবা কোনোদিন বাংলাদেশে আইনের শাসন ছিলোই না। আইন অন্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের আইন চোখ খুইলা দেখে কার কাছে টাকা আছে, অপরাধী এম্পির ছেলে কিনা, ছেলে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন বা শ্রমিক, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন করে কিনা। অথবা আইনে কোনো ফাঁকফোকর আছে কিনা যেটা দিয়ে তারে নির্দোষ প্রমান করা যায়, অথবা জামিনে বের কইরা আইনা বিদেশ পাঠায়া দেয়া যায়।
যাই হোক, দুর্নীতি আর সুশাসন একসাথে চলেনা। দেশে যথেষ্ট পরিমান দুর্নীতি আছে, আবার বলবেন সুশাসনের জোয়ারে দেশ ভাইসা যাইতে আর দুই দিন বাকি। হবে না। প্রশাসন না হইলেও মানুষের চলতো। তাও প্রশাসন আছে, কেন? মানুষকে শাসন করার জন্য! এই ধারনা অনেক আগেই বিলুপ্ত হইছে। সেই সুদূর ঐতিহাসিক ইম্পেরিয়াল আর কলোনিয়াল যুগে প্রশাসনের কাজ ছিলো শাসন করা। এখন প্রশাসনের কাজ মানুষের সেবা করা। সেবার জন্য লোকাল গভমেন্ট, মিউনিসিপিলিটি, থানা, দপ্তর, অধিদপ্তর, বিভিন্ন রকম সরকারী-আধাসরকারী অফিস ইত্যাদি। তাদের কাজ মানুষের কাজকে সহজ করা। তাদের কাজ মানুষের যা দরকার তা হাতের কাছে নিয়া আসা। কেউ বিদেশ যাইতে চায়, পাসপোর্ট অফিসের কাজ তার কাছে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়া তারে পাসপোর্ট যত দ্রুত সম্ভব দিয়ে দেয়া। কেউ উদ্যোক্তা হইতে চায়, তারে যুব অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিয়া, ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়া উদ্যোগ শুরু করতে সাহায্য করা।
আচ্ছা প্রশাসন চলে কেমনে? টাকা কই পায়? টাকা ত সাধারন মানুষের টাকা। একজন এম্পির বেতন কতো? তার ট্যাক্স কতো কাটে? এইযে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এতো বিদেশ যায় ট্রেনিং নিতে, মাসে এতো টাকা বেতন-ভাতা পায়, তার উপর চুরি করে, কার টাকা? যে বেকার যুবক বন্ধুর কাছ থেকে ঋণ নিয়া একটা সিগারেট খায়, সেই সিগারেটের টাকার ভ্যাট-ট্যাক্সে তাদের বেতন হয়। যে পতিতা মাসে একবার লাক্স সাবান কিনে, সেই সাবানের ভ্যাট-ট্যাক্সে আসে বিদেশভ্রমণ। যে রিক্সাচালক রোজার মাসে বাচ্চাদের জন্য একপোয়া খেজুর কিনে, সেই ইম্পোর্টেট খেজুরের ভ্যাট-ট্যাক্সে চলে আপনাদের অফিসের বিদ্যুবিল।
তাহলে সে প্রশাসন যদি সেবা দিতে না পারে, কি করা উচিত? সেবা আদায় করে নেয়া উচিত। দিবেন না কেন, দিতে হবে। করবেন না কেন, করতে হবে।
সুশাসন প্রশাসন অনেক হইছে। একটা গল্প বলি। হযরত ওমর তখন খলিফা। তার সময়ে মুসলিম সাম্রাজ্য আকারে আয়তনে বেশ বড় হয়। একপাশে মিসর, আরেকপাশে ইরান। ওমর তখন আরেক সাহাবিকে বলছিলেন- ‘যদি ফোরাত নদীর তীরে একটা কুকুরও না খেয়ে মরে, আল্লাহর দরবারে এই ওমরকে জবাব দিতে হবে।’ বাংলাদেশের মানুষতো মানুষ, কুকুর বেড়াল, ডাইনোসররাও উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে।
আল্লাহকে জবাবদিহি করতে চাইলেও আসলে প্রাথমিক জবাবদিহিতাটা তিনি একজন সাহাবীর সামনেই করেছিলেন। এখন না মানুষের সামনে জবাবদিহিতা, না পরকালের জবাবদিহিতার কোনো ভাবনা। এমনকি এই বিষয় নিয়া ন্যূনতম চিন্তাও করে কিনা সন্দেহ। এমনকি আধুনিককালেও আমাদের কয়েকঘর ঐপাশে মালয়েশিয়ায়, প্রধানমন্ত্রী নাজিব বিন রাজ্জাক রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কিছু টাকা সরিয়ে বৌ-ছেলেকে বিদেশে বাড়ি কিনে দেন, বৌকে কাপড়-ব্যাগ-জুতা কিনে দেন। জবাব চাওয়ার জন্য দেশের তরুণ-যুবক-ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে রাস্তায় নামেন ৯২ বছরের বৃদ্ধ মাহাথির বিন মুহাম্মদ। নাজিব জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে হারে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। কারণ টাকাটা জনগণের কষ্টের টাকা।
বাংলাদেশ নিয়ে অনেকে হতাশ। আমি এখনো হতাশ না। আমি জানি দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ আসলেই আগায়া যাবে। দুর্নীতি মিষ্টি কথায় বন্ধ হবে না। দুর্নীতি আসলে করতেছে খুব কম লোক। কিন্তু তারা এমন এমন জায়গায় বসে দুর্নীতি করতেছে যে সেটা সামাল দেয়া মুশকিল। দুর্নীতি হয়ত তাদের বিলাসীতার উৎস, তাদের অন্যতম রুটিরুজি। তো তাদের রুটিরুজি আপনি বন্ধ করে দিবেন, তাদের পেটে লাথি দিবেন, এতো সহজ? একজন রিক্সাওয়ালা এক খ্যাপে কয় টাকা বাড়ায়া দিতে বলে- ৫ টাকা, ১০ টাকা। একজন মুদি দোকানদার খুচরা চালে নিজে কয় টাকা বাড়ায়া বেচে? ২-৩ টাকা। আর শেয়ার বাজার থেকে উধাও হয় কতো কোটি টাকা? ব্যাংক থেকে উধাও হয় কতো কোটি টাকা? আর খেলাপি শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করা হয় কতো কোটি টাকা?
প্রশাসনের যেখানেই অন্যায় দেখা যাবে, অনিয়ম-দুর্নীতি দেখা যাবে সেখানেই জবাব চাইতে হবে। জবাব আবার একলা চাইলে হবে না। একলা জবাব চাইতে গেলে দেখা গেলো ৫৭ ধারা দিয়া বইসা আছে, অথবা পকেটে ইয়াবা দিয়া বললো বদির ছোটো ভাই পাইছি একটা। কয়েকজন মিল্লা চাইতে হবে। কারণ আপনার একার শক্তির চেয়ে অনেকের সম্মিলিত শক্তি, বেশি শক্তিশালী। যারা দেশ নিয়া আশাবাদী তারা ত জবাব চাইবেনই, যারা হতাশ ও বিরক্ত তারা আরো বেশি বেশি চাইবেন। দেশের প্রতি হতাশা ও বিরক্তিকে পরিণত করুন পজিটিভ শক্তিতে। দেশ আগায়া যাবে আপনার ছোট্ট পদক্ষেপে।
অনেক কথা বললাম। কালকে কি হবে জানিনা। ভবিষ্যৎ সর্বদা অনিশ্চিত। কিন্তু আশা রাখতে দোষ কি? আপনার জবাব চাওয়া থেকেই হয়ত শুরু হবে দেশের অগ্রযাত্রা। গৌতম বুদ্ধ বলে গেছেন- ‘লাইফ ইস এ ওয়ান-টাইম অফার, ইউজ ইট ওয়েল’। এই এক জীবনে বসবাসোপযোগী একটা দেশ আশা করা নিশ্চয় আকাশকুসুম কল্পনা না।
No comments:
Post a Comment